খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় এক বিভীষিকাময় হামলার শিকার হয়ে দীর্ঘ লড়াই শেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন গ্রাম্য চিকিৎসক খোকন চন্দ্র দাস (৪৫)। গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে দুর্বৃত্তদের নৃশংস ছুরিকাঘাত এবং পেট্রল দিয়ে শরীর পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার চার দিন পর, আজ শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে পুরো শরীয়তপুর জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
ঘটনার লোমহর্ষক প্রেক্ষাপট
পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ ডিসেম্বর বছরের শেষ রাতে ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙ্গা এলাকায় এই নৃশংসতা ঘটে। খোকন চন্দ্র দাস প্রতিদিনের মতো তাঁর ব্যক্তিগত ফার্মেসি বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে নির্জন স্থানে ওত পেতে থাকা একদল দুর্বৃত্ত তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে তাঁর তলপেটে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করলে তাঁর নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়। এরপর তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে আত্মরক্ষার তাগিদে খোকন পাশের একটি জলাশয়ে ঝাঁপ দেন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁর মুখমণ্ডল ও ডান হাত মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছিল।
মামলার বিবরণ ও অভিযুক্তদের তথ্য
এই বর্বরোচিত ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে খোকন চন্দ্র দাসের বাবা পরেশ চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ডামুড্যা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছিলেন, যা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। মামলায় স্থানীয় কনেশ্বর এলাকার তিন যুবককে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে।
| অভিযুক্তের নাম | বয়স | এলাকা ও অবস্থান |
|---|---|---|
| সোহাগ খান | ২৭ বছর | কনেশ্বর এলাকা, প্রধান অভিযুক্ত। |
| রাব্বি মোল্যা | ২১ বছর | কনেশ্বর এলাকা, সহযোগী। |
| পলাশ সরদার | ২৫ বছর | কনেশ্বর এলাকা, সহযোগী। |
| মামলার বর্তমান অবস্থা | – | খোকনের মৃত্যুর পর এটি এখন একটি নিয়মিত হত্যা মামলা। |
স্বজনদের আহাজারি ও পুলিশের বক্তব্য
নিহতের ভাগ্নে প্রান্ত দাস অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, আজ সকাল ৭টা ২০ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মামা মারা যান। তিনি দাবি করেন যে, অভিযুক্তদের সাথে তাঁর মামার ব্যক্তিগত কোনো শত্রুতা ছিল না; স্রেফ ছিনতাই ও পাশবিক জিঘাংসার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই হত্যাকাণ্ড কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং মানবিকতার চরম অবক্ষয় হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। একজন নিরীহ চিকিৎসকের এমন করুণ মৃত্যু সমাজকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে এই পাষণ্ডদের ফাঁসি নিশ্চিত করা হোক যেন ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়।