খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
দেশজুড়ে ছেঁড়া-ফাটা, ত্রুটিপূর্ণ ও ময়লাযুক্ত কাগুজে নোটের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় নগদ লেনদেনে ভোগান্তি কমাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে—সব তফসিলি ব্যাংককে বাধ্যতামূলকভাবে এসব নোট গ্রহণ করতে হবে এবং গ্রাহকদের বিনিময়ে নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে। এ নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
রোববার (১২ এপ্রিল) জারি করা এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জনসাধারণের স্বাভাবিক ও সুষ্ঠু নগদ লেনদেন নিশ্চিত করতে দেশের সব ব্যাংক শাখায় নিয়মিতভাবে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোট গ্রহণ এবং তা বদলে দেওয়ার কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান নীতিমালা থাকা সত্ত্বেও বাজারে এখনও ব্যাপক হারে নষ্ট নোটের প্রচলন দেখা যাচ্ছে, যা লেনদেনে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ সমস্যা নিরসনে তাদের ‘ক্লিন নোট পলিসি’ আরও জোরদারভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। এ নীতির মূল লক্ষ্য হলো বাজারে পরিচ্ছন্ন, ব্যবহারযোগ্য নোটের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ধীরে ধীরে অচল বা অগ্রহণযোগ্য নোট অপসারণ করা। এজন্য ব্যাংকগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।
বিশেষভাবে ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার ছোট মূল্যমানের নোটের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এসব নোট বেশি ব্যবহার হওয়ায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। তাই প্রতিটি ব্যাংক শাখায় নির্ধারিত বিশেষ কাউন্টার চালু রেখে এসব নোট নিয়মিতভাবে গ্রহণ ও বিনিময় করতে হবে।
নিম্নে নির্দেশনার মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | নির্দেশনা |
|---|---|
| নোট গ্রহণ | সব ছেঁড়া, ময়লাযুক্ত ও ত্রুটিপূর্ণ নোট গ্রহণ বাধ্যতামূলক |
| নোট বিনিময় | নতুন বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট সরবরাহ করতে হবে |
| অগ্রাধিকার নোট | ৫, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট |
| বিশেষ ব্যবস্থা | প্রতিটি শাখায় নির্ধারিত কাউন্টার চালু রাখা |
| শাস্তিমূলক ব্যবস্থা | নির্দেশনা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা |
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ছোট মূল্যমানের নোট সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়—বিশেষ করে খুচরা বাজার, গণপরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে। ফলে এসব নোট দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং অনেক সময় ব্যবসায়ী বা পরিবহনকর্মীরা তা নিতে অস্বীকৃতি জানান, যা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে বাজারে নোট সংক্রান্ত বিশৃঙ্খলা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে এবং নগদ লেনদেন আরও সহজ ও স্বচ্ছ হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, কোনো ব্যাংক শাখা যদি এ সেবা প্রদানে অনীহা দেখায় বা গাফিলতি করে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে দেশের নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং জনসাধারণের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
মন্তব্য