খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
জাপানে বয়সের সীমা অতিক্রম করে এক নারীর প্রেম ও বিয়ের গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। ৬৩ বছর বয়সী আজারাশি বিয়ে করেছেন মাত্র ৩১ বছরের এক তরুণকে, যিনি তার একমাত্র ছেলের চেয়েও ছয় বছরের ছোট।
আজারাশি ২০২০ সালে টোকিওর একটি ক্যাফেতে প্রথমবার ওই তরুণের সঙ্গে দেখা করেন। কাকতালীয়ভাবে এক সপ্তাহ পর আবার দেখা হলে শুরু হয় আলাপ। পরে ফোন নম্বর বিনিময় হয় এবং ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে।
এর আগে আজারাশি দুই দশক সংসার করার পর ৪৮ বছর বয়সে তালাকপ্রাপ্ত হন। এরপর তিনি একা ছেলেকে বড় করেন। পোষা কুকুরের যত্ন আর পেট ক্লথিং ব্যবসা নিয়েই জীবন কেটে যাচ্ছিল তার। যদিও ডেটিং অ্যাপে কয়েকজনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল, তবে বিয়ে আর হয়নি।
কিন্তু ওই তরুণের সঙ্গে পরিচয়ের পর প্রতিদিন এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টেলিফোনে কথা হতো তাদের। আজারাশি বলেন, ‘আমি যা-ই বলি না কেন সে মন দিয়ে শোনে, বুঝতে পারে। সে খুব ভালো শ্রোতা। এতে আমি সত্যিই খুশি হয়েছি।’
এক মাসের মধ্যেই তারা একে অপরের প্রকৃত বয়স জানতে পারেন। বিস্ময়করভাবে আজারাশির ছেলে মায়ের নতুন সম্পর্ককে শুরু থেকেই সমর্থন করেন। তবে তরুণটির মা প্রথমে আপত্তি জানান, কারণ তিনি বয়সে আজারাশির থেকেও ছোট। পরবর্তীতে ছেলের জোরাজুরিতে রাজি হয়ে যান।
২০২২ সালে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন। বর্তমানে দু’জন মিলে একটি ম্যারেজ এজেন্সি চালাচ্ছেন এবং সুখী দাম্পত্য জীবন কাটাচ্ছেন।
এই অপ্রত্যাশিত প্রেম ও বিয়ে নিয়ে অনলাইনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ একে সত্যিকারের ভালোবাসার উদাহরণ হিসেবে প্রশংসা করছেন, আবার কেউ বয়সের পার্থক্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
এ ধরনের ঘটনা জাপানে প্রথম নয়। এর আগে আলোচনায় এসেছিল আরেক প্রেমের গল্প—২৩ বছরের এক যুবক প্রেমে পড়েছিলেন তার সহপাঠীর ৮৩ বছর বয়সি দাদির প্রতি। প্রায় ৬০ বছরের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও তারা এখন একসঙ্গে বসবাস করছেন। জানা যায়, ওই যুবক প্রথম দেখাতেই দাদির প্রতি আকৃষ্ট হন। পরবর্তীতে ডিজনিল্যান্ড ভ্রমণের সময় তাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং তারা সম্পর্কে জড়ান।
খবরওয়ালা/এন