খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৮ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের নারী ফুটবল এখন এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে। প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। আর সেই ইতিহাসগাঁথা যাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফঈদা তুলে ধরেন দলের স্বপ্ন, প্রস্তুতির পেছনের কৃতজ্ঞতা এবং একান্তই ব্যক্তিগত—তবে দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নারী ফুটবলারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আফঈদা বলেন, “প্রথমেই আমি কাজী সালাহউদ্দিন স্যারের নাম বলব। আমাদের সাবেক সভাপতি, সেই সঙ্গে কিরণ ম্যাডাম। তাঁরা দুজন যদি আমাদের জন্য দীর্ঘদিনের ক্যাম্প পদ্ধতি চালু না রাখতেন, তাহলে আজকের এই সাফল্য আসত না।”
তিনি আরও যোগ করেন, “বর্তমান সভাপতি স্যারও আন্তরিক। তিনি একইভাবে সবকিছু করছেন। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে এমন লম্বা সময় ধরে ক্যাম্প হওয়ার নজির নেই বললেই চলে। সেদিক থেকে আমরা অনেক ভাগ্যবান।”
জাতীয় দল এখন নিয়মিত বিদেশি কোচ, উন্নত অনুশীলন ও কন্ডিশনিং সুবিধা পাচ্ছে। এই কাঠামোগত উন্নয়নের ফলেই বাংলাদেশ এখন খেলছে এশিয়ান কাপে, আর ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন আঁকছে।
তবে সাফল্যের উচ্ছ্বাসের মাঝেও আফঈদা ভবিষ্যতের শঙ্কা কথা জানিয়ে বলেন, “আমরা দেশের জন্য, ফুটবলের জন্য এত কিছু করছি; কিন্তু আমাদের ভবিষ্যৎ কী? ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার পর ভবিষ্যতে আমরা কী করব—এই অনিশ্চয়তা তো আছেই।”
এই মন্তব্যে ফুটে উঠেছে একটি বড় বাস্তবতা—নারী ফুটবলারদের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বিকল্প পেশাগত পথের অভাব।
এশিয়ান কাপে জায়গা করে নেওয়া নারী দলের জন্য ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ এখন আর কল্পনা নয়, বরং পরিকল্পনার বিষয়। তবে সেই পথে যেতে হলে লাগবে আরও পৃষ্ঠপোষকতা, পরিকল্পিত প্রস্তুতি ও সবার সম্মিলিত সহযোগিতা।
এই মুহূর্তে নারী ফুটবলারদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন নিরাপদ ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। নিয়মিত আয়, চাকরি, বা খেলোয়াড়ি জীবনের পর পুনর্বাসনের সুযোগ ছাড়া এই স্বপ্ন বেশি দূর যেতে পারবে না।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা শুধু দেশের জন্য খেলছেন না, তারা নারী ক্ষমতায়নের জীবন্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। সময় এসেছে—তাদের পাশে দাঁড়ানোর, শুধুই বাহবা দিয়ে নয়, বাস্তব সহায়তা দিয়ে।
খবরওয়ালা/এমএজেড