খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের পদত্যাগের দাবিতে শনিবার রাতে তেল আবিবে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ একত্র হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে ছিল বর্তমান সরকারের নীতি ও সাম্প্রতিক সময়ের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষ।
বিক্ষোভে অংশ নিয়ে রাফায়েল পিনাইনা নামের এক ব্যক্তি বলেন, নেতানিয়াহু ভেতর থেকে সমাজকে ধ্বংস করছেন এবং ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করছেন। তিনি বলেন, এ কারণেই তিনি এই প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিক্ষোভকারীরা বর্তমান ও সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে ৭ অক্টোবরের ঘটনাবলি এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করছেন। তাঁর ভাষায়, জনগণের সত্য জানার অধিকার রয়েছে।
আরেক বিক্ষোভকারী লি হফম্যান-আজিভ বলেন, তিনি মূলত সেই সব পরিবারের প্রতি সংহতি জানাতে এসেছেন, যারা ৭ অক্টোবরের ঘটনা এবং পরবর্তী সময়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ সংঘাতের কারণে প্রিয়জন হারিয়েছেন।
অন্যদিকে হাইম ট্রিভ্যাক্স নামের এক বিক্ষোভকারী দাবি করেন, লেবানন ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত সম্প্রসারণ ইসরায়েলের জন্য ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, বিশেষ করে আইনি জটিলতা এড়ানোর জন্য এসব সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বিক্ষোভটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলেও অংশগ্রহণকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং পদত্যাগের দাবি জানান।
নিচে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| নাম | পরিচয় | প্রধান বক্তব্য |
|---|---|---|
| রাফায়েল পিনাইনা | বিক্ষোভকারী | সরকারের কারণে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নষ্ট হচ্ছে; ৭ অক্টোবরের ঘটনার তদন্ত দাবি |
| লি হফম্যান-আজিভ | সমাজকর্মী | সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং সহমর্মিতা জানানো |
| হাইম ট্রিভ্যাক্স | বিক্ষোভকারী | লেবানন ও ইরানের সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধি ভুল সিদ্ধান্ত; ব্যক্তিগত স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ |
এএফপি এবং মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা সরকারের নীতি ও সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা মনে করেন, রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তগুলোর কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে এবং এর জন্য জবাবদিহি প্রয়োজন।
তথ্যসূত্র: এএফপি, মিডল ইস্ট আই