খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারে ডিজেলের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলার জন্য।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সরকারি ছুটির দিন অনুষ্ঠিত কমিটির ভার্চুয়াল সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরি। সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈশ্বিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি সরবরাহে চাপ আসার সম্ভাবনা বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী সভায় বলেন, “দেশে ডিজেলের অভাব রোধ করতে এবং যাত্রী, শিল্প ও কৃষিখাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু রাখতে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এটি আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।”
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ক্রয়ের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ডিজেল আমদানি করা হবে।
এই আমদানির মাধ্যমে দেশের তেলসংক্রান্ত বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভোক্তা ও শিল্প খাতের জন্য ডিজেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি সৃষ্টি না হওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অনুমোদিত ডিজেল | ৩,০০,০০০ মেট্রিক টন |
| আমদানি পদ্ধতি | আন্তর্জাতিক ক্রয়, সরাসরি |
| সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান | এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড (১ লাখ মেট্রিক টন), সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড (২ লাখ মেট্রিক টন) |
| অনুমোদন কর্তৃপক্ষ | অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি |
| অনুমোদনের তারিখ | ২৬ মার্চ ২০২৬ |
| উদ্দেশ্য | দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণ ও বাজার স্থিতিশীলতা |
বিশ্ববাজারে জ্বালানি মূল্য অস্থির থাকায় এবং ভৌগোলিক-রাজনৈতিক সংকটের কারণে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সরকার বিপদের প্রভাব কমাতে চাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরাসরি আমদানির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ ডিজেল বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে এবং পরিবহন ও শিল্প খাতের কার্যক্রম কোনো প্রভাব ছাড়া চলতে পারবে।
এছাড়া, সরকারের এই পদক্ষেপে বাজারে অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি রোধ এবং সাধারণ ভোক্তাদের ডিজেলের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা হবে। এতে করে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতের উৎপাদনেও কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না।
সার্বিকভাবে, দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির এই অনুমোদন একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও নিরাপত্তা উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।