খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইউনিফিল জানিয়েছে, রবিবার তাদের টহল দলের ওপর গুলি চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। ইউনিফিল নিশ্চিত করেছে, গুলিটি ইসরায়েলের একটি মেরকাভা ট্যাঙ্ক থেকে ছোড়া হয় এবং ভারী মেশিনগানের গুলি তাদের সদস্যদের মাত্র পাঁচ মিটার দূরে এসে পড়ে। কোনও সদস্য আহত না হলেও জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে “অত্যন্ত উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শুরুতে দাবি করে, তারা দক্ষিণ লেবাননের আল-হামামেস এলাকায় দুই “সন্দেহভাজন” লক্ষ্য করে সতর্কতামূলক গুলি ছুঁড়েছিল। পরে একটি অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় তারা স্বীকার করে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে ভুলবশত ইউনিফিল সদস্যদের সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল এবং এটি ইচ্ছাকৃত হামলা ছিল না।
ইউনিফিল জানায়, ইসরায়েলি ট্যাঙ্কটি সরে যাওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর শান্তিরক্ষীরা নিরাপদে পেছনে সরে আসতে সক্ষম হন। লেবাননের সেনাবাহিনী ও ইউনিফিল যৌথভাবে যে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করছে—গত নভেম্বর হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যে বিরতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল—এই গুলিবর্ষণ সেই কাঠামোকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলে তারা সতর্ক করেছে।
জাতিসংঘ আরও মনে করিয়ে দিয়েছে, এই ঘটনা নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাবের স্পষ্ট লঙ্ঘন। ২০০৬ সালের ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ যুদ্ধের পর ওই প্রস্তাবই সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ ও শান্তিরক্ষীদের দায়িত্ব নিশ্চিত করে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক উপস্থিতি এখনো বিতর্কিত; যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী তাদের সরে যাওয়ার কথা থাকলেও পাঁচটি এলাকাকে “কৌশলগত” বিবেচনায় তারা অবস্থান ধরে রেখেছে। ইসরায়েল প্রায়ই দাবি করে, তাদের হামলা হিজবুল্লাহর ওপর লক্ষ্যস্থির; তবে এসব হামলার মধ্যে বেসামরিক অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে বলে সমালোচনা বাড়ছে।
ইউনিফিল অভিযোগ করেছে, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়—এর আগে বারবার তাদের সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখোমুখি হয়েছে। বাহিনীটি আবারও ইসরায়েলি বাহিনীকে শান্তিরক্ষীদের ওপর বা তাদের আশপাশে যেকোনো আক্রমণাত্মক আচরণ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে, কারণ এসব পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও সংকটমুখী করে তুলছে।