খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন আজ একটি অমূল্য রত্নকে হারাল। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক অ্যাথলেট, নিবেদিতপ্রাণ কোচ ও ক্রীড়া সংগঠক শামীমা সাত্তার মিমো গতকাল রাতে রাজধানীর নিজ বাসভবনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শামীমা সাত্তার দীর্ঘদিন হৃদরোগ ও ভার্টিগো সমস্যায় ভুগছিলেন। কয়েক মাস আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, ফলে হাঁটাচলায় অসুবিধা এবং মানুষের মুখ চিনতেও সমস্যা দেখা দেয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি আবার ক্রীড়াঙ্গনে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু সেই প্রত্যাবর্তন দীর্ঘ হয়নি। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ দিনাজপুরে বাবার কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।
শামীমা সাত্তার মিমো স্বাধীনতা–উত্তরকালে বাংলাদেশের অ্যাথলেটিকসের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ছিলেন। তিনি জাতীয় অ্যাথলেটিকসে হাই জাম্প ইভেন্টে দীর্ঘদিন আধিপত্য বজায় রেখেছিলেন। এছাড়া স্প্রিন্টে একাধিক পদক অর্জন করেন। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার লাভ করেন।
অ্যাথলেটিকস ক্যারিয়ার শেষে তিনি কোচ, জাজ ও সংগঠক হিসেবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে কোচ হিসেবে কাজ করার পর তিনি বিকেএসপি-র উপপরিচালক (প্রশিক্ষণ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপরও অ্যাথলেটিকস ও আর্চারি ফেডারেশনের সক্রিয় সদস্য এবং দীর্ঘকাল জাজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন।
তার মৃত্যুতে বিকেএসপি, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন, আর্চারি ফেডারেশনসহ দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠন ও বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
নিচের টেবিলে শামীমা সাত্তার মিমোর জীবন ও কৃতিত্ব সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নাম | শামীমা সাত্তার মিমো |
| জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার | ২০০০ |
| প্রধান ইভেন্ট | হাই জাম্প, স্প্রিন্ট |
| কর্মজীবন | অ্যাথলেট, কোচ, জাজ, সংগঠক |
| প্রতিষ্ঠান | জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি |
| স্বাস্থ্য সমস্যা | হৃদরোগ, ভার্টিগো |
| শেষকৃত্য | দিনাজপুরে বাবার কবরের পাশে |
শামীমা সাত্তার মিমোর জীবন ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এক অনবদ্য দৃষ্টান্ত। তার নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও সততা নতুন প্রজন্মের অ্যাথলেটদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার প্রয়াণ দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের সদস্যরা তার অবদান স্মরণ করে ভবিষ্যতে দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে অনুপ্রাণিত হবেন।