খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৩ মার্চ ২০২৫
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসার পর ১১টি দুর্বল ব্যাংকের পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। এদের মধ্যে কিছু ব্যাংক আবার ভালোভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তবে কিছু ব্যাংক এখনো আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠছে: যদি কোনো ব্যাংক দেউলিয়া বা বন্ধ হয়ে গেলে কত টাকা ফেরত পাবেন একজন গ্রাহক।
আমানত সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি অবসায়িত (বন্ধ) হয়, তাহলে প্রতিটি আমানতকারী সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। তবে, বর্তমান গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ঘোষণা করেছেন যে, আমানত বীমা তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এখন থেকে কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হলে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ফেরত পাবেন।
ড. আহসান এইচ মনসুর ৮ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমানত বীমার পরিমাণ এক লাখ থেকে দুই লাখ টাকায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে প্রায় ৯৫ শতাংশ আমানতকারীর আমানত সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ হবে। পৃথিবীর কোনো দেশই শতভাগ আমানতকারীর টাকার গ্যারান্টি দিতে পারে না, তবে ছোট আমানতকারীরা দ্রুত টাকা ফেরত পাবেন।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে আমানতকারী অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১৫ কোটি ৭১ লাখ ২০ হাজার ২২৭টি। এর মধ্যে দুই লাখ বা তার নিচে অর্থ রয়েছে ১৪ কোটি ৭১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৩৩টি। অর্থাৎ, আমানত বীমার বৃদ্ধি কারণে দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ আমানতকারীর অর্থ এখন নিরাপদ। তবে, যদি কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যায় এবং একাউন্টে দুই লাখ টাকার বেশি থাকে, সেক্ষেত্রে গ্রাহকরা শুধু দুই লাখ টাকা পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে আমানত বীমা তহবিলের পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা, যা বর্তমানে ১৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। গত পাঁচ বছরে এটি দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের তুলনায় এই পরিমাণ বেড়েছে এক হাজার ৭৯০ কোটি টাকা, বা ১৪.১১ শতাংশ। এই তহবিল সব ব্যাংক থেকে নির্ধারিত হারে চাঁদা নিয়ে গঠন করা হয়।
১৯৮৪ সালে প্রথম ব্যাংক আমানত বীমার জন্য অধ্যাদেশ জারি হয়, যা ২০০০ সালে ব্যাংক আমানত বীমা আইন ২০০০-এ পরিণত হয়। এই আইনের অধীনে, গ্রাহকদের জমা রাখা অর্থের বিপরীতে ব্যাংকগুলো এক লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত বীমা দিতে পারে। ২০১৭ সালে এই আইনের সংশোধনীর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, যার ফলে ব্যাংক বন্ধ হলে গ্রাহকরা ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা ফেরত পাবেন। তবে সেই আইন বাস্তবায়িত হয়নি।
বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীদের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণের ওপর ০.৮% থেকে ০.১০% হারে বীমার প্রিমিয়াম দিতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জমা রাখা আমানতকারীদের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ আমানত সুরক্ষা বীমার আওতায় আছেন। দুই লাখ টাকার ফেরত নিয়ম কার্যকর হলে, বীমার আওতায় থাকা অ্যাকাউন্টের পরিমাণ ৯৫-৯৬ শতাংশে পৌঁছাবে। তবে, সরকারের উচিত প্রতিবেশী দেশ ও উন্নত দেশের প্রিমিয়াম রেট বিবেচনা করে এই ব্যবস্থা নির্ধারণ করা।
খবরওয়ালা/এসআর