খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পুনরায় চালু করেছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি অ্যালার্ম-সংক্রান্ত কারিগরি সমস্যার কারণে এর প্রথম চালুর চেষ্টা স্থগিত হওয়ায় এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টায় কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক কেন্দ্রটি আবার চালু করার কথা ঘোষণা করে। টেপকোর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “সাতটি রিয়্যাক্টরের মধ্যে একটি রিয়্যাক্টর পুনরায় চালু করা হয়েছে। পূর্বের অ্যালার্মের কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়েছিল। এখন রিয়্যাক্টরটি নিরাপদ এবং স্থিতিশীল অবস্থায় আছে।”
২০১১ সালের ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর জাপান ব্যাপকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করেছিল। তৎকালীন ভূমিকম্প ও সুনামির কারণে ফুকুশিমার তিনটি রিয়্যাক্টর গলে যাওয়ায় দেশটির পারমাণবিক শিল্পে দীর্ঘমেয়াদি স্থবিরতা দেখা দেয়। কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রও তখন কার্যত অচল হয়ে যায়। তবে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জন এবং ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে জাপান ধীরে ধীরে পুনরায় পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার শুরু করছে।
দেশটির রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সম্প্রতি নির্বাচনে বড় বিজয় অর্জন করার পর পারমাণবিক শক্তির ব্যবহারকে দেশের অর্থনৈতিক গতি ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে সমর্থন জানিয়েছেন।
টেপকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জানুয়ারিতে প্রথম চালু করার সময় একটি অ্যালার্ম সক্রিয় হওয়ায় কেন্দ্রটি বন্ধ করা হয়েছিল। পরে একটি কেবলের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহে সামান্য পরিবর্তন ধরা পড়ায় অ্যালার্ম বাজে। তবে এটি নিরাপদ সীমার মধ্যে ছিল এবং পরবর্তীতে সেটিংস সমন্বয় করে রিয়্যাক্টরটি নিরাপদভাবে পরিচালনার উপযোগী করা হয়েছে।
টেপকোর প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ পরিদর্শন শেষ হলে কেন্দ্রটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেতে পারে।
নিচের টেবিলটিতে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া পারমাণবিক কেন্দ্রের প্রধান তথ্য তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | নিগাতা প্রদেশ, জাপান |
| পরিচালন সংস্থা | টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (টেপকো) |
| মোট রিয়্যাক্টর সংখ্যা | ৭টি |
| পুনঃচালু হওয়া রিয়্যাক্টর | ১টি |
| প্রথম চালুর চেষ্টা | ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ |
| অ্যালার্ম সংক্রান্ত সমস্যা | পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কেবল পরিবর্তন |
| বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু সম্ভাব্য তারিখ | ১৮ মার্চ ২০২৬ বা তার পর |
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাপানের এই পুনঃচালনা দেশের শক্তির নিরাপত্তা, কার্বন হ্রাস এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।