খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে সাম্প্রতিক পদত্যাগকারী যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন অভিযোগ করেছেন, জুলাই আন্দোলনকে কৌশলে জামায়াতে ইসলামীর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। রোববার দুপুরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং নির্বাচনী কৌশলের নামে দলের স্বকীয়তা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে।
তাজনূভা বলেন, “নিজেরও ভালো লাগছে না, এভাবে ছেড়ে যেতে। তবে যারা দেশের জন্য সত্যিই নিবেদিত নয়, তাদের সমঝোতায় এমপি হওয়ার আগ্রহ দেখানো এবং জামায়াতের হাতে পুরো জুলাইকে তুলে দেওয়া আমার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়। এটি কেবল রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং পরিকল্পিত কাজ।”
তিনি আরও বলেন, সমগ্র প্রক্রিয়াটি শাসন এবং ন্যায্যতার চেয়েও বড় বিশ্বাসের ক্ষতি করছে। মাত্র কয়েকদিন আগে সারাদেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনের মধ্যে ৩০ জনকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, বাকিদের নির্বাচনের অধিকার বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়ন ও জোট সম্পর্কিত তথ্য:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মোট মনোনয়নপ্রার্থী | 125 জন |
| নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি প্রাপ্ত | 30 জন |
| জোটে অন্তর্ভুক্ত আসন | 70 আসন (চরমোনাই পীরের সঙ্গে সমঝোতা) |
| গণঅভ্যুত্থান থেকে আসন | 30 আসন |
| স্বতন্ত্র নির্বাচন সম্ভাবনা | নেই |
তাজনূভা জাবীন আরও বলেছেন, “এনসিপি শুরু থেকেই মধ্যপন্থী, নারী ও জাতিসত্তার সমন্বয়ে রাজনীতি করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে। তবে বর্তমানে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করছে, যা দলের মূল নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী।”
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনী জোটে অংশগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণরূপে অস্বচ্ছ এবং নেতাদের স্বতন্ত্র সিদ্ধান্তের অধিকার সীমিত করা হয়েছে। জোটের মধ্য দিয়ে নেতাদের নির্বাচনী ক্ষমতা ও দায়িত্বের ক্ষেত্রে অসমতা তৈরি করা হয়েছে।
তাজনূভা জাবীন জানান, নিজের পদত্যাগের মূল কারণ জোট নয়, বরং প্রক্রিয়াটির অস্বচ্ছতা ও নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাসহীনতা। তিনি বলেন, “আমি নতুন সংবিধান ও মধ্যপন্থার রাজনীতির পক্ষে। স্বতন্ত্র নির্বাচনের সুযোগ থাকলে বিএনপি বা জামাতের বাইরে থেকে তৃতীয় জোট তৈরি করা যেত। কিন্তু সব বিকল্প ধীরে ধীরে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র জামাতের সঙ্গে জোটের পথ দেখানো হয়েছে।”
তিনি শেষ পর্যন্ত বলেন, “আজ আমি এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছি। তবে দেশের গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমার রাজনীতি চলবে অব্যাহত। নতুন মধ্যপন্থার রাজনীতির শূন্যস্থান আমি পূরণ করার চেষ্টা করব।”