নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ জুলাই ২০২৫
রাজধানী ঢাকা অভিমুখে দলবদ্ধভাবে আসছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। আজ শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলটির ‘জাতীয় সমাবেশ’ ঘিরে ঢাকায় আসছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মীরা। তবে এ যাত্রায় ব্যবহৃত রিজার্ভ ট্রেনের টিকিট ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেসব ট্রেনে জামায়াতের সমাবেশে যোগ দিতে কর্মীরা আসছেন, সেগুলোর টিকিটে কোথাও ‘জামায়াত’ বা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ নামটি লেখা নেই। বরং সেখানে লেখা হয়েছে শুধু ‘জাতীয় সমাবেশ’।
এই টিকিটে অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় বা সমাবেশের প্রকৃতি স্পষ্ট না থাকায় সাধারণ যাত্রী বা পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—বরং রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি বা শ্রমজীবী মানুষদের সম্মেলন হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। উদ্দেশ্য—সাধারণ জনগণ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ‘ম্যাস মবিলাইজেশন’ দেখানো।
এক বিশ্লেষকের ভাষায়: “এই পদ্ধতিতে জামায়াত দেখাতে পারবে, লাখ লাখ সাধারণ মানুষ তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে ঢাকায় এসেছে। কেউ বুঝতেও পারবে না এটা মূলত জামায়াতের কর্মসূচি।”
তিনি আরও বলেন, এটি আসলে ‘গুপ্ত রাজনীতির নতুন রূপ’। যেখানে প্রথাগত রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে থেকে এক ধরনের বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সমর্থন প্রদর্শনের চেষ্টা করা হয়। এমনকি শ্রমিকদের প্রোগ্রামের নামেও মানুষকে একত্রিত করে ভিন্ন উদ্দেশ্য হাসিল করা হয়।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এমন ‘গোপনীয়তা’ ভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, চাহিদা অনুযায়ী রিজার্ভ ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে। তবে যারা টিকিট কাটছেন, তারা কোন উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন বা কোন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, তা সবসময় যাচাই করা হয় না।
‘জাতীয় সমাবেশ’ নাম ব্যবহার করে জামায়াতে ইসলামীর এমন কার্যক্রম নিঃসন্দেহে এক ’নতুন কৌশল’র ইঙ্গিত দেয়। রাজনৈতিক শুদ্ধতা, গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতার স্বার্থে এই ধরনের কার্যকলাপ নিয়ে এখনই আলোচনার প্রয়োজন—এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
খবরওয়ালা/এমএজেড