খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১১০ বোতল আমদানিকৃত ভারতীয় মদ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) ভোররাতে উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর নামক সীমান্তবর্তী গ্রামে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান চলাকালীন পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারিরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়ায় এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী ডাংধরা ইউনিয়নের পাথরেরচর এলাকা দিয়ে মাদকের একটি বড় চালান পাচার হচ্ছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদ আসে পুলিশের কাছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার অধীনস্থ সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি চৌকস দল ভোররাতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে।
অভিযান পরিচালনাকারী দলটির অবস্থান টের পেয়ে ওই এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি পলাশ মিয়াসহ তার সহযোগীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ সদস্যরা তল্লাশি চালিয়ে মাদক কারবারি পলাশ মিয়ার বসতবাড়ির সীমানার ঠিক সামনে অবস্থিত একটি নির্জন ভুট্টাক্ষেতের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধারকৃত এই চোরাই মাদক বা ভারতীয় মদের আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারমূল্য অত্যন্ত চড়া। জব্দ করা ১১০ বোতল মদের আনুমানিক বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। সীমান্ত গলিয়ে অবৈধ উপায়ে এই মাদকের চালানটি দেশের অভ্যন্তরে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযানের স্থান | পাথরেরচর (পলাশ মিয়ার বাড়ির সামনের ভুট্টাক্ষেত), ডাংধরা ইউনিয়ন, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর |
| অভিযানের সময় | ৮ জুন, সোমবার (ভোররাত) |
| পরিচালনাকারী দল | সানন্দবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র, দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা |
| জব্দকৃত মাদক | ১১০ বোতল ভারতীয় মদ (পরিত্যক্ত অবস্থায়) |
| আনুমানিক বাজারমূল্য | প্রায় ৪,৪০,০০০ টাকা (চার লাখ চল্লিশ হাজার টাকা) |
| অভিযুক্ত মাদক কারবারি | পলাশ মিয়া (পলাতক) |
| আইনি পদক্ষেপ | মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের |
এ বিষয়ে সোমবার সকালে দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং এই চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত পলাশ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা কারবারিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ওসি আনোয়ার হোসেন আরও উল্লেখ করেন যে, সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে মাদক পাচার, চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কঠোর হস্তে দমন করতে পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে। দেশের যুবসমাজকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এই ধরণের ঝটিকা ও বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা হবে। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।