খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং একটি বেসরকারি দুগ্ধ খামারে নৈশপ্রহরীদের হাত-পা বেঁধে চালানো দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই দুটি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচজন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা বিভিন্ন অপরাধের মামলায় আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে পুনরায় একের পর এক ডাকাতির ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে বলে পুলিশি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
কামারখন্দ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার দিবাগত রাত ১টা থেকে শুরু করে রবিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত নাটোর ও সিরাজগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এই দীর্ঘ অভিযানে নাটোরের সিংড়া থানা এলাকা এবং সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানা এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আজ সোমবার (১৫ জুন, ২০২৬) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত এই পাঁচ আসামিকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সিরাজগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার পাকড়তলা গ্রামের বাসিন্দা সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেস (৬২) এবং তাঁর ছেলে হৃদয় হাসান (২৬)। বাকি তিনজন হলেন—সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানার বাওসাগরি (বাসামারা) গ্রামের মো. সুজন (৩১), নাটোর জেলার সিংড়া থানার সোনাপুর গ্রামের মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে সবুজ (৩১) এবং সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার গোপরেখী পশ্চিম পাড়ার মো. ইমদাদুল হক (৪৩)।
কামারখন্দ থানা পুলিশের সরবরাহকৃত মামলার নথিপত্র ও তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কামারখন্দ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রথম ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। এরপর চলতি বছরের ২৭ মে উপজেলার চৌবাড়ী গ্রামে অবস্থিত ‘ফেঞ্চি মিল্ক অ্যান্ড এগ্রো ফ্যাক্টরি’ নামক একটি দুগ্ধ উৎপাদনকারী কারখানায় দ্বিতীয় ডাকাতির ঘটনাটি সংগঠিত হয়। দুটি অপরাধের ক্ষেত্রেই ডাকাত দলটি একই ধরনের কৌশল অবলম্বন করেছিল। গভীর রাতে কারখানায় প্রবেশ করে সেখানে কর্মরত ও দায়িত্বরত নৈশপ্রহরীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং তাদের হাত-পা শক্ত করে বেঁধে এই লুটপাট চালানো হয়। গ্রেপ্তারকৃত পাঁচ আসামির প্রত্যেকেই এই দুটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের অপরাধ রেকর্ড ফাইল ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এই ডাকাত দলের সদস্যরা অত্যন্ত পেশাদার এবং তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক গুরুতর অপরাধের মামলা রয়েছে। আসামি হৃদয় হাসান, মো. সুজন এবং মো. ইমদাদুল হক ইতোপূর্বেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তারা নাটোরের একটি সুগার মিলে ডাকাতি, মোহনপুরের কেশরহাটের একটি কোল্ড স্টোরেজে (হিমাগার) ডাকাতি, রাজশাহীর গোদাগাড়ী এলাকায় ডাকাতি এবং ঢাকার সাভারের ধামরাই থানার একটি ডাকাতি মামলায় অতীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে তারা আদালত থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে বেরিয়ে আসেন এবং মুক্ত হওয়ার পর পুনরায় নিজেদের অপরাধ চক্র সচল করে ডাকাতি শুরু করেন।
কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাশমত আলী আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলার বিবরণ দিয়ে জানান, গ্রেপ্তারকৃত সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেসের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে ৫টি ডাকাতির মামলা রয়েছে। তাঁর ছেলে হৃদয়ের নামে রয়েছে ৭টি মামলা। এ ছাড়া ইমদাদুলের নামে ৫টি এবং সুজনের নামে চুরি ও ডাকাতির সর্বোচ্চ ১৩টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। অন্যদিকে, নাটোরের সিংড়ার বাসিন্দা সবুজের নামে চুরি, ডাকাতির চেষ্টা এবং অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়ের মোট ৫টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরও উল্লেখ করেন যে, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সাদেক আলী ওরফে মোকাদ্দেস নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি কামারখন্দ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নাটোর সুগার মিল, মোহনপুরের কেশরহাটের কোল্ড স্টোরেজ এবং মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানায় অবস্থিত পপুলার পলিথিন কারখানায় সংগঠিত হওয়া বড় বড় ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহণের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন। এই চক্রের বাকি সদস্যদের বিষয়েও আইনি অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।