বগুড়া শহরে ‘জিন তাড়ানোর’ অজুহাতে এক মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (দাখিল) পরীক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসার নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন বলে জানা গেছে।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হাকিম রেজাউল করিম (৪০)। তিনি নামাজগড় এলাকার ভান্ডারী মসজিদ সংলগ্ন ‘আশ-সিফা দাওয়া খানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ঝাড়ফুঁক ও কথিত আধ্যাত্মিক চিকিৎসার কাজ করতেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরীর ওপর ‘জিনের প্রভাব’ রয়েছে বলে দাবি করেন অভিযুক্ত কবিরাজ। এরপর তিনি ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসার কথা বলে তাকে তার প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে নিয়ে যান এবং কক্ষটি বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। এ সময় তিনি উপস্থিত অন্যদের বাইরে চলে যেতে নির্দেশ দেন। পরে ওই কিশোরীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে সেখানে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়, একই দিনে বিকেলের দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে পুনরায় তাকে তার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসতে বলেন। পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে সেখানে গেলে তিনি আবারও কিশোরীকে কক্ষে নিয়ে একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী কিশোরী কান্নাজড়িত অবস্থায় পুরো ঘটনাটি তার পরিবারের সদস্যদের জানায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবারটি বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অভিযুক্ত ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য
| বিষয় |
বিবরণ |
| অভিযুক্তের নাম |
হাকিম রেজাউল করিম |
| বয়স |
৪০ বছর |
| পেশা |
কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁক চিকিৎসা |
| প্রতিষ্ঠান |
আশ-সিফা দাওয়া খানা |
| ঘটনার স্থান |
নামাজগড়, বগুড়া শহর |
| অভিযোগের ধরন |
ধর্ষণ (জিন তাড়ানোর অজুহাতে) |
| গ্রেপ্তারের তারিখ |
৫ মে (মঙ্গলবার রাত) |
| বর্তমান অবস্থা |
পুলিশ হেফাজতে, তদন্তাধীন |
বগুড়া সদর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং আধ্যাত্মিক চিকিৎসার নামে অপব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।