খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের প্রখ্যাত নজরুলসঙ্গীত সাধক, সঙ্গীত শিক্ষক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী ওস্তাদ জুলহাসউদ্দিন আহমেদ ছিলেন এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। দৃষ্টিশক্তিহীন হয়েও সঙ্গীতচর্চায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে তিনি প্রমাণ করেছিলেন—সংগ্রাম ও সাধনার শক্তি সব প্রতিকূলতাকে জয় করতে পারে।
১৯৩৩ সালের ১১ নভেম্বর মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার বাড়ৈখালী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইয়ার আলী বেপারি এবং মাতা হাসনা বেগম। নয় সন্তানের মধ্যে জুলহাসউদ্দিন ছিলেন সবার ছোট। আড়াই বছর বয়সে গুটি বসন্তে আক্রান্ত হয়ে তিনি চিরতরে হারান দৃষ্টিশক্তি।
তবে পারিবারিক আবহ তাঁকে শৈশব থেকেই সঙ্গীতমুখী করে তোলে। তাঁর পিতামাতা দুজনেই সঙ্গীতচর্চায় আগ্রহী ছিলেন। আবার তাঁর মাতামহ দেওয়ান আব্দুল কাদের ছিলেন দেহতত্ত্বমূলক গানের রচয়িতা ও সুরকার।
মাত্র সাত বছর বয়সে, ১৯৪০ সালে, নিজ জেলার এক সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি প্রথম পদক লাভ করেন।
১৯৪৯ সালে তাঁর বড় ভাই ফরহাদ হোসেন তাঁকে কলকাতায় পাঠান সঙ্গীতে উচ্চতর শিক্ষার জন্য। সেখানে প্রথমে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী চিন্ময় লাহিড়ীর কাছে এবং পরে তারাপদ চক্রবর্তীর কাছে পাঁচ বছর গুরুগৃহে শিক্ষালাভ করেন। একই সময়ে তিনি বেলেঘাটায় এক বন্ধুর বাড়িতে থেকে সঙ্গীত টিউশনি শুরু করেন।
দেশে ফিরে ১৯৫৫ সালে রাজশাহীর এক সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন। এখানেই তিনি স্বর্ণপদকসহ ‘সুরসাগর’ উপাধি লাভ করেন।
পরে আবার কলকাতায় ফিরে ১৯৫৬ সালে তিনি সঙ্গীত মহারথী আমির খাঁ, পণ্ডিত ওমকারনাথ ঠাকুর, নিসার হোসেন খাঁ এবং ওস্তাদ বড়ে গুলাম আলীর সান্নিধ্য লাভ করেন, যা তাঁর সঙ্গীত জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হয়ে ওঠে।
১৯৬১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত নজরুলসংগীত ও আধুনিক গান পরিবেশন করেছেন। স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে নজরুলসংগীতের অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। তবে দুর্ভাগ্যক্রমে ১৯৭৫ সালেই তাঁর কণ্ঠস্বর নষ্ট হয়ে যায়।
জীবনভর অকৃতদার থেকে তিনি কেবল সঙ্গীতকেই নিজের সাধনার একমাত্র ব্রত করেছিলেন। সঙ্গীতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০১৭ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন।
২০২১ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। চির অন্ধত্বকে জয় করা এই ‘সুরসাগর’ আজ নেই, কিন্তু তাঁর সাধনা ও অবদান বাঙালির সাংস্কৃতিক ভুবনে অমর হয়ে থাকবে। আজ এই দিনে মহান এই শিল্পীর প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞলী।
খবরওয়ালা/এমএজেড