খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১১ এপ্রিল ২০২৫
গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনে মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যেই সৌদি আরবে ডিজে পার্টির আয়োজন ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। পবিত্র মদিনা নগরীর খুব কাছেই, আল-উলার জাবাল আল-ফিল এলাকায় গত সপ্তাহে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রসঙ্গত, গাজা উপত্যকা ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর অব্যাহত বোমাবর্ষণে রূপ নিয়েছে ধ্বংসস্তূপে। ৫৫০ দিনের বেশি সময় ধরে চলছে নৃশংসতা। প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছেন নিরীহ নারী-শিশুসহ অসংখ্য ফিলিস্তিনি। খাবার, পানি, ওষুধ এমনকি আশ্রয়েরও তীব্র সংকট চলছে অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে।
ধ্বংস করা হয়েছে হাসপাতাল, মসজিদ, স্কুলসহ জীবনধারণের মৌলিক অবকাঠামো। স্বজনদের হারিয়ে বিভোর মানুষগুলো ধ্বংসস্তূপে খুঁজে ফিরছেন প্রিয়জনের নিথর দেহ। চারদিকে শুধু আর্তনাদ, ক্ষুধার্ত শিশুদের কান্না আর বারুদের গন্ধ।
এই মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে, মধ্যপ্রাচ্যের অনেক মুসলিম দেশের নীরবতা ঘিরে বিশ্বব্যাপী সমালোচনা উঠছে। বাংলাদেশসহ নানা দেশে যখন ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মিছিল ও বিক্ষোভ হচ্ছে, তখন আরব বিশ্বের অনেক দেশে নাচ-গান, উৎসব আর আতশবাজিতে মেতে ওঠার দৃশ্য হতাশা আর ক্ষোভ ছড়াচ্ছে বিশ্বজুড়ে।
বিশেষ করে, সৌদি আরবে ডিজে পার্টির আয়োজন, যেখানে পশ্চিমা সুরে তরুণ-তরুণীরা রাতভর নাচে মেতেছেন তা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মুসলিম বিশ্বের ঐক্য আর মূল্যবোধ নিয়ে।
এছাড়া, চলতি মাসেই কাতারের লুসাইল শহরে বিলাসবহুল আতশবাজির আয়োজন, আকর্ষণীয় অ্যাক্রোবেটিক শো ও ড্রোন আলোক প্রদর্শনীতেও খরচ হয়েছে কোটি কোটি টাকা। এই আয়োজনগুলো যখন চলছে, তখন গাজার আকাশ প্রতিদিনই আলোকিত হচ্ছে বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্রের বিভীষিকায়।
একপাশে রক্ত, আরেক পাশে রঙিন উৎসব এই বৈপরীত্যই এখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ফিলিস্তিন সংকটের এই দুঃসময়ে আরব দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে বিশ্ব মুসলিম সমাজে হতাশা ও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে এমন আয়োজন।
খবরওয়ালা/এমবি