খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় এক দুঃসাহসিক অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৮ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে চারটার দিকে ফতুল্লা মডেল থানার একটি টহল দল মুসলিমনগর নয়াবাজার এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় একদল লোকের সন্দেহজনক অবস্থান দেখে পুলিশ ও স্থানীয় জনতা এগিয়ে গেলে ৭-৮ জনের একটি ডাকাত দল দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ ধাওয়া করে দুই ডাকাতকে আটক করতে সক্ষম হলেও বাকিরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বরগুনা জেলার আমতলী থানার বাসিন্দা অলিউল্লাহ হাওলাদার (৩০) ও জাকারিয়া হাওলাদার (২৮)। তারা দীর্ঘ দিন ধরে ফতুল্লা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা এএসআই মোজাম্মেল হক ও এসআই সনজিব জোয়াদ্দার জানান, আটকদের তল্লাশি করে ডাকাতির সরঞ্জামসহ লুট করা বিপুল পরিমাণ সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে। নিচে উদ্ধারকৃত মালামালের একটি তালিকা দেওয়া হলো:
| উদ্ধারকৃত দ্রব্যের নাম | পরিমাণ/বিবরণ |
| নগদ টাকা | ৮,০০,০০০ (আট লক্ষ) টাকা |
| স্বর্ণের চেইন | ৪.৪৪ গ্রাম |
| স্বর্ণের আংটি | ২.১৬ গ্রাম |
| স্বর্ণের কানের দুল | ৪০ পিস (৩৩.১২ গ্রাম) |
| দেশীয় অস্ত্র | ১টি সুইচ গিয়ার চাকু, ১টি স্টিলের চাপাতি, ২টি সাধারণ চাকু |
| অন্যান্য সরঞ্জাম | ১টি কাটার এবং ১টি গ্যাস লাইটার |
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, ডাকাত দলটি পঞ্চবটি থেকে কাশিপুরগামী সড়কে যানবাহন বেরিকেড দিয়ে বড় ধরনের ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল ওই সড়কে চলাচলকারী মিশুক, অটোরিকশা ও সিএনজি চালকসহ সাধারণ যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেওয়া। তবে উদ্ধারকৃত নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারগুলো এর আগে কোথা থেকে তারা লুট করেছে, সে ব্যাপারে তারা এখনো মুখ খোলেনি। ধারণা করা হচ্ছে, ইতিপূর্বে কোনো বড় বাড়িতে তারা সফল ডাকাতি সম্পন্ন করেছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ফতুল্লা মডেল থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত এবং তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে টহল পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।