খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫
বিশাখাপত্তম—ভারতীয় ক্রিকেটে একটি কুখ্যাত ভেন্যু, বিশেষ করে রাতের ম্যাচগুলোতে। এ মাঠে শিশির এতটাই ভয়াবহভাবে প্রভাব ফেলে যে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটসম্যানরা প্রায় সবসময়ই সুবিধা পান। অথচ স্পিনারদের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে ভারত। ফলে সিরিজের নির্ধারণী ম্যাচে ভারত ভয় পাচ্ছে টসে হারার চিন্তাতেই।
ক্রিকেটে টস হারালেও ম্যাচ জেতা সম্ভব—এটা যৌক্তিক কথা। কিন্তু যেখানে পরিবেশই একটি দলকে বিপর্যস্ত করে দেয়, সেখানে টস ম্যাচের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ভারতের সমস্যা হলো, তারা টানা ২০ ম্যাচ টস হারছে। তাই এই পরিস্থিতি এবার তাদের কাছে কৌশল নয়, মানসিক চাপের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ইতোমধ্যে খেলার এই মনস্তাত্ত্বিক অংশটি নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। তারা জানে—টস জিতলে আগে বোলিং করবে। কারণ প্রথম ইনিংসে স্পিনার কাজ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে তা প্রায় কাজে আসে না। ৩৫০ রান করলেও বিপদ, ৩৭০ রান করলেও নিশ্চয়তা নেই।
বিশাখাপত্তমের পিচ ব্যাটিং-বান্ধব হলেও প্রথম ১০ ওভারে সিমাররা সহায়ক কন্ডিশন পান। এরপর সবকিছু ব্যাটসম্যানদের পক্ষে চলে যায়। ফলে কোনও দল যদি প্রথমে ব্যাট করে, তাদের একটি নির্দিষ্ট কৌশল থাকতে হবে—আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, প্রথম ২০ ওভারে ১৫০+ রান, মাঝের ওভারে উইকেট না হারানো এবং ৩৫০-৩৮০ রান নিশ্চিত করা। অন্যথায় ম্যাচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে ঝুঁকবে।
এখন প্রশ্ন—ভারত কি এই যুদ্ধটা কৌশলে জিততে পারে? কোচ টেন ডোশেট বলে দিয়েছেন, “শিশিরে অভিযোগ করে লাভ নেই, সমাধান খুঁজতে হবে।” অর্থাৎ ভারত যদি পরিবেশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে স্বীকার করে, তাহলে নতুন পরিকল্পনা সফল হতে পারে। নতুন বলে আক্রমণ, স্পিনারদের আগেই এনে স্লাইডার ও দ্রুত বল বেশি করা, ব্যাটিংয়ে ১০-১৫ ওভারেই রানের ঝড়—এটাই ভারতের সামনে আদর্শ পথ।
দক্ষিণ আফ্রিকাও বুঝে গেছে, ভারতের বিরুদ্ধে শিশিরই তাদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। তাই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু ক্রিকেট নয়; একে বলা যায় ‘শিশির যুদ্ধ’। আর সেই যুদ্ধে জয়ী হবে সেই দল, যে দল শুধু ব্যাট-বলের পারদর্শী নয়—পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণ করতেও পারে।