খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ আগস্ট ২০২৫
ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বদলি হয়েছিলেন। কিন্তু নতুন কর্মস্থলেও বদলায়নি তার পুরনো অভ্যাস। এবার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর-রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত সহকারী কর্মকর্তা (তহসিলদার) রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে উঠেছে ঘুষ আদায়, হয়রানি, বিদ্যুৎ চুরি ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ গড়ার অভিযোগ।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, টাকা ছাড়া এই অফিসে কোনো কাজ হয় না। সরকারি কাজে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি নিজ মুখেই স্বীকার করেছেন রেজাউল।
২০২৪ সালের শুরুর দিকে রানীশংকৈল উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ঘটনায় তাকে শাস্তিমূলক বদলি করে ঠাকুরগাঁও সদরের জামালপুর-রায়পুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে পাঠানো হয়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নতুন কর্মস্থলে এসেও আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।
জমি খারিজ করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন জামালপুর ইউনিয়নের আন্না খাওয়া। তিনি জানান, ‘৮ শতাংশ জমির খারিজ করতে ৭ হাজার টাকায় চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু খারিজের কাগজে ভুল থাকায় তা সংশোধনের জন্য তহসিলদার আবার ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। আমি বাধ্য হয়ে তা দিই।’
আরেক ভুক্তভোগী জানান, সাড়ে ১২ হাজার টাকা দেওয়ার পরও দিনের পর দিন ঘুরিয়েও খারিজের কাগজপত্র দেননি রেজাউল। পরে আরো ৫০০ টাকা না দিলে কাগজ দেবেন না বলে জানিয়ে দেন।
সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে নিজের অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভূমি অফিসের ভেতরের বিদ্যুৎ লাইনের সংযোগ নিয়ে বাইরে রাখা অটোরিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, ‘সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে নিজের গাড়ি চার্জ দেওয়া সরাসরি দুর্নীতি। এর মাধ্যমে জনগণের সম্পদ অপব্যবহার করা হচ্ছে।’
ভূমি সহকারী কর্মকর্তা রেজাউল করিম এসব অভিযোগের জবাবে নিজের অফিসে বসেই অর্থ লেনদেনের বিষয়ে সরল স্বীকারোক্তি দেন। তিনি জানান, মামুন নামে এক সহকারী তার হয়ে আবেদন ও লেনদেনের কাজ করেন।
‘আমি টাকার অঙ্ক বলি না, মানুষ খুশিমতো যা দেয়, না নিলে মনে করে কাজ হবে না,’ — বলেন রেজাউল। তার ভাষায়, ‘জোর করে যদি কেউ দেয়… না করি না। এটা সত্যি কথা।’
অর্থ আদায়ের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মামুনের কাজ হলো খারিজের আবেদন করে দেওয়া। সরকারি ফি ৭০ টাকা হলেও মানুষ ১০০-১৫০ টাকা দেয়। এতে কিছু বাড়তি টাকা মামুনের হয়।’
রেজাউলের ভাষ্য, মামুন প্রতি মাসে ৫০ থেকে ৬০টি আবেদন করে দেন। তবে তিনি দাবি করেন, ‘আমি কোনো টাকা মামুনের মারফত নিই না। ওকে আমি বসাইওনি, আগের তহসিলদার বসিয়েছিলেন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্নীতির মাধ্যমে রেজাউল করিম বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঠাকুরগাঁও শহরের সাহাপাড়ায় পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন তিনি, যার দোতলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া শহর ও গ্রামে তার নামে-বেনামে আরো সম্পত্তির অভিযোগ রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ‘অভিযোগগুলো আমরা পেয়েছি। একজন সরকারি কর্মকর্তা যদি নিজের দায়িত্বের অপব্যবহার করেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এন