খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 20শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ৪ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সরকারিভাবে বরাদ্দ থাকলেও মাঠপর্যায়ে দেখা দিয়েছে সারের কৃত্রিম সংকট।
বিশেষ করে টিএসপি সারের চাহিদা বেশি থাকায় এই সার মিলছে না নির্ধারিত দামে। বাধ্য হয়ে কৃষকরা দ্বিগুণ দাম দিয়ে কিনছেন, কেউ কেউ আবার পাশের জেলা থেকে সংগ্রহ করছেন সার।
উপজেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে—যেমন ধলাপাড়া, সাগরদীঘি, লক্ষিন্দর, রসুলপুর ও সন্ধানপুর ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে চাষ হচ্ছে কলা, ড্রাগন, পেঁপে, হলুদ ও আখ। এসব ফসলের জন্য সারের চাহিদা প্রচুর। তবে কৃষকদের অভিযোগ, বরাদ্দ অপ্রতুল এবং পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় সারের সংকট আরও প্রকট হয়েছে।
কৃষক বাদল মিয়া জানান, ১৮৫ বিঘা জমিতে চাষাবাদের জন্য প্রতি মাসে তার প্রয়োজন হয় ১৫০ বস্তা টিএসপি, ১০০ বস্তা এমওপি এবং ৫০ বস্তা ইউরিয়া সার। কিন্তু ঘাটাইলের ডিলারদের কাছ থেকে সেগুলো পাওয়া যাচ্ছে না। গত মাসে নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইলের অন্য উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দামে সার সংগ্রহ করেছেন তিনি।
সাগরদীঘির কৃষক নাসির সিকদার বলেন, “সার না পেয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। ডিলারদের কাছে গেলে বলে, সার নেই। অথচ কালোবাজারে গেলে পাওয়া যায়, তাও দ্বিগুণ দামে।”
সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ও টিএসপি সারের প্রতি ৫০ কেজির বস্তা ১,৩৫০ টাকা, এমওপি ১,০০০ টাকা ও ডিএপি ১,০৫০ টাকা হলেও মাঠপর্যায়ে তা কার্যকর নয় বলে কৃষকরা অভিযোগ করেন। বড় কৃষকরা জানান, নির্ধারিত দামে সার পেলে তাদের মাসে ১৫–২০ লাখ টাকা সাশ্রয় হতো।
উপজেলায় বিসিআইসি ডিলার আছেন ১৮ জন ও বিএডিসি ডিলার ২০ জন। তাদের বরাদ্দও সীমিত। গত জুলাইয়ে প্রতিজন ডিলার পেয়েছেন ইউরিয়া ৪৪০ বস্তা, টিএসপি ১০১ বস্তা, এমওপি ৫০ ও ডিএপি ৭৯ বস্তা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডিলার জানান, মাসের শুরুতেই বরাদ্দ ফুরিয়ে যায়। তবে তারা বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।
ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ স্বীকার করেছেন, “উপজেলায় সারের সংকট রয়েছে, বিষয়টি কৃষকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে সার বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, “উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। কেউ বেশি দামে বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে চলছে আমন ধানের রোপণের মৌসুম। কিন্তু সার না পেয়ে অনেক কৃষক জমি প্রস্তুত করেও রোপণ করতে পারছেন না। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চাষাবাদ বন্ধের হুমকি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা।
খবরওয়ালা/আশ