খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানে মাটির নিচে পুঁতে রাখা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে মাদক পাচার যে এখনও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে, এই অভিযান তারই স্পষ্ট প্রমাণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযানে এক লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
র্যাব সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-১৫-এর একটি বিশেষ দল টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। টেকনাফ–কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন ওই স্থানে একটি পানবরজ ঘিরে সন্দেহজনক তৎপরতা নজরে এলে অভিযান জোরদার করা হয়। অভিযান চলাকালে ২৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ হাকিমকে আটক করা হয়। তিনি নোয়াখালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং নুরুল ইসলামের ছেলে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাকিম স্বীকার করেন যে, ওই পানবরজের ভেতরে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পুঁতে রাখা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী র্যাব সদস্যরা নির্দিষ্ট স্থানে খনন কাজ চালান। পরে মাটির নিচ থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো মোট ১০টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। র্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক এ. এম. ফারুক জানান, প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ৫০টি করে এয়ারটাইট জিপার ব্যাগ এবং প্রতিটি ব্যাগে ২০০টি করে ইয়াবা ট্যাবলেট। সব মিলিয়ে উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা দাঁড়ায় এক লাখ।
ইয়াবার পাশাপাশি অভিযানে একটি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে, যা মাদক লেনদেন ও যোগাযোগে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, টেকনাফ দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়া, দুর্গম পাহাড়ি এলাকা এবং সমুদ্রপথের সহজ প্রবেশাধিকার—সব মিলিয়ে এই অঞ্চলটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাদক লুকাতে মাটির নিচে পুঁতে রাখার প্রবণতাও বেড়েছে, যাতে নিয়মিত টহল ও তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়া যায়।
র্যাব কর্মকর্তারা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান ও নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির মাধ্যমেই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে। সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযান পরিচালনাকারী সংস্থা | র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫) |
| অভিযান এলাকা | নোয়াখালীপাড়া, বাহারছড়া, টেকনাফ |
| উদ্ধারকৃত মাদক | ইয়াবা (মেথামফেটামিন ট্যাবলেট) |
| মোট পরিমাণ | ১,০০,০০০ ট্যাবলেট |
| গ্রেপ্তার ব্যক্তি | মোহাম্মদ হাকিম (২৩) |
| অন্যান্য জব্দকৃত সামগ্রী | একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন |
র্যাব জানিয়েছে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয় পাচার চক্র ভেঙে দিতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরালোভাবে চলবে।