খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ এপ্রিল ২০২৪
খবরওয়ালা ডেস্ক ॥ ট্যাক্স পলিসির কারণে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমছে, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি কর দিতে হয় বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরদের। যদি সিম ও কর্পোরেট কর প্রত্যাহার এবং স্মার্টফোন ও ডাটা সহজলভ্য করা হয় তবে জিডিপিতে অবদান রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করেন মোবাইল অপারেটরদের কর্মকর্তারা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, যেসব দেশে টেলিকমে কর কম সেসব দেশে জিডিপিও বাড়ে।
সার্বিকভাবে জাতীয় প্রবৃদ্ধিতে অন্তরায় টেলিকম খাতের ট্যাক্স-ভ্যাট পলিসি। এই ট্যাক্স পলিসির কারণে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাচ্ছে। ফলে এখনি স্মার্ট ট্যাক্স পলিসির প্রয়োজন। গতকাল রোববার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে টেলিকম এন্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। সংগঠনের সভাপতি রাশেদ মেহেদী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যামটব মহাসচিব লে. কর্নেল (অব.) মোহম্মদ জুলফিকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ ও গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান। বক্তব্য রাখেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবির, টিআইএম নূরুল কবির, বাংলালিংকের ভারপ্রাপ্ত সিইও তৈমুর রহমান, রবি’র চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম ও গ্রামীণফোনের সিনিয়র ডিরেক্টর হোসেন সাদাত। দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর ব্যাপ্তিতে খুশি হলেও সন্তুষ্ট নন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, দেশের জিডিপিতে অবদান রাখতে টেলিকম খাতের প্রস্তুতি হিসেবে এনবিআরকে স্মার্ট করতে হবে।
স্মার্ট ট্যাক্সেসন পলিসি ছাড়া টেলিকম খাতের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে। টেলিকম খাতকে ঢেলে সাজিয়ে স্মার্ট টেলিকম খাত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। যৌক্তিক করপোরেট কর নির্ধারণের বিষয়ে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনার কথাও বলেন তিনি। প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, কর কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হলে এই ইকোসিস্টেমের সঙ্গে জড়িত সবাইকে নিয়ে বসতে হবে। আলোচনার সব কথা যেমন উড়িয়ে দেয়া যাবে না, তবে সব কথার সঙ্গে এক নই। তবে রিফর্ম করতেই হবে। টেলিকম খাতের টোটাল সিস্টেম রিভিউ করে আরও সিমপ্লিফাই করতে হবে। ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কর কাঠামো ঢেলে সাজানো উচিত।

মোহম্মদ জুলফিকার জানান, বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ মোবাইল বাজার বাংলাদেশ। দেশের জিডিপিতে অন্তত ২.৮% অবদানের লক্ষ্য তাদের। সুমন আহমেদ সাবির বলেন, সব জায়গাতে কর আরোপের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। টেলিকম খাতে দ্বৈত নয় বহুধাপ কর দিতে হয়। তাই ইন্টিলিজেন্ট স্মার্ট ট্যাক্সেসেন দরকার। টিআইএম নূরুল কবির বলেন, এনবিআরের সিদ্ধান্তে অনিশ্চয়তায় দেশে এখন বিদেশি বিনিয়োগ কমছে। সিগারেট আর টেলিকম দুটোতেই একই পরিমাণ ট্যাক্স কেন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ট্যাক্স জিডিপি রেশিওতে বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের চেয়েও খারাপ। ইন্টারনেটের উপর ট্যাক্স-ভ্যাট জিরো করে দিলে সেটা হবে বাংলাদেশের উন্নয়নের মাইলফলক।
তৈমুর রহমান বলেন, আইসিটি ও টেলিকমে এখন কার্যত কোনো দূরত্ব নেই। তাই এক্ষেত্রে স্মার্ট ট্যাক্সেশন জরুরি। সাহেদ আলম বলেন, নন ট্যাক্স খাতে সর্বোচ্চ কর দিয়ে আমরা গৌরব করি। আমাদের কর দেয়ার সক্ষমতাও রয়েছে। জাতীয় উন্নয়নের জন্য কর দরকার। কিন্তু এক্ষেত্রে ব্যবহারকারী পর্যায়ে বাধা সৃষ্টির মতো কোনো কর থাকা উচিত নয়। হোসেন সাদাত বলেন, স্টেক হোল্ডারদের মত নিয়ে একটি সাপোর্টিং পলিসি গ্রহণ করতে পারলে স্মার্ট বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে পারবে।
আরও দেখুন: