খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতৃত্বের উদ্দেশে আবারও কঠোর ও বিতর্কিত ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তাঁর দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার হুমকি অব্যাহত থাকলে দেশটিকে ‘পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে’। সাম্প্রতিক এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তাদের এমনটা করা উচিত নয়। আমি আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে রেখেছি—আমার সঙ্গে যদি কিছু ঘটে, তবে পুরো দেশটাই ধ্বংস করে দেওয়া হবে।” তাঁর এই বক্তব্য কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ট্রাম্প জানান, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারণার সময় তৎকালীন বাইডেন প্রশাসনের গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তাঁকে সম্ভাব্য হত্যার হুমকি সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মেরিক গারল্যান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের ষড়যন্ত্রের পেছনে ২০২০ সালে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টি থাকতে পারে। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের এক ড্রোন হামলায় সোলাইমানি নিহত হন, যা মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের উত্তেজনার জন্ম দিয়েছিল।
এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উচিত ছিল বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা এবং সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্টদের পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তাঁর মতে, এ ধরনের হুমকি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিরুদ্ধে।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইরান যদি তাঁকে হত্যার চেষ্টা করত, তবে তার ফল হতো ভয়াবহ। “এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয় নয়—ইরান এমন কিছু করলে দেশটি সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত,” বলেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি পুনর্বহাল এবং কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার কথা উল্লেখ করেও তিনি একই সুরে কথা বলেন।
এদিকে ইরানে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও ট্রাম্পের বক্তব্যে উঠে আসে। তাঁর দাবি, এসব ঘটনায় ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদিও সাম্প্রতিক সময়ে এসব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দেশটির সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
| সাল/সময় | ঘটনা |
|---|---|
| ২০২০ | যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত |
| ২০২৪ | ট্রাম্পকে সম্ভাব্য হত্যার হুমকি নিয়ে গোয়েন্দা ব্রিফিং |
| ২০২৫ | ট্রাম্পের ইরানবিরোধী প্রকাশ্য হুমকি ও মন্তব্য |
| চলমান | ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও মানবাধিকার সংকট |
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।