খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি ২০২৬
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আইনকে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার নীতি ও সিদ্ধান্ত কেবল তার “নিজস্ব নৈতিকতা” বা ‘own morality’-এর ওপর নির্ভর করে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আমার আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োজন নেই। আমি মানুষকে আঘাত করতে চাইছি না।” যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা উচিত কি না, তিনি বলেন, “আমি তা করি, তবে আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা কী, তা ব্যাখ্যার উপর নির্ভর করে।”
ট্রাম্প তার বৈদেশিক নীতিতে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে ‘ব্রুট ফোর্স’ বা পাশবিক শক্তি প্রয়োগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গত শনিবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় হামলা চালায়। রাজধানী কারাকাস এবং সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ ঘটেছে। মার্কিন সেনারা মাদুরোকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়।
বিশ্ব সম্প্রদায় এবং সমালোচকরা বলেছেন, এটি জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন, যা “যেকোনো রাষ্ট্রের আঞ্চলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি” নিষিদ্ধ করে।
ভেনেজুয়েলা হামলার পর প্রধান তথ্যসমূহ
| ঘটনা | বিবরণ |
|---|---|
| তারিখ | ৩ জানুয়ারি, শনিবার |
| স্থান | কারাকাস, ভেনেজুয়েলা |
| লক্ষ্য | প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপহরণ |
| ফলাফল | মাদুরো অপহরণ, সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরণ |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনের সমালোচনা |
| ট্রাম্পের বক্তব্য | আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োজন নেই, নৈতিকতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত |
হামলার পর ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা “পরিচালনা” করবে এবং দেশটির তেল সম্পদ ব্যবহার করবে। যদিও তার প্রশাসন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বলেছে, তারা একই সঙ্গে তার নীতি অনুসরণে চাপ দেবে এবং ব্যর্থ হলে “দ্বিতীয় দফার” সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছে।
রবিবার দ্য আটলান্টিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “রদ্রিগেজ যদি সঠিক কাজ না করেন, তবে তাকে মাদুরোর চেয়েও বড় মূল্য দিতে হবে।”
চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ওপর হামলার ইঙ্গিত দিয়েছেন এবং ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচারণা জোরদার করেছেন। এছাড়া গত জুনে ইরানের তিনটি প্রধান পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশ দেন।
ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেছেন, “আমরা একটি পরাশক্তি এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে আমরা পরাশক্তির মতোই আচরণ করব।” তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি এই অবজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র ও সমগ্র বিশ্ব সম্প্রদায়ের জন্য বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। জাতিসংঘের বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার মার্গারেট স্যাটারথওয়েট বলেছেন, “আন্তর্জাতিক আইন প্রত্যাখ্যান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।”