খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে এক নতুন এবং চরম আগ্রাসী ধারার সূচনা হয়েছে, যার সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার মধ্য দিয়ে। ক্ষমতা গ্রহণের আগেই তিনি গ্রিনল্যান্ড দখল এবং পানামা খালের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার মতো বিতর্কিত সব পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। এখন ভেনেজুয়েলায় তাঁর এই হস্তক্ষেপ ল্যাটিন আমেরিকার দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিয়েছে। তবে মাদুরোকে উৎখাত করার এই পদক্ষেপ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি ট্রাম্পের এক বৃহত্তর আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
২০২২ সালে ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চলে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতিকে ট্রাম্প যেভাবে স্বাগত জানিয়েছিলেন, তার প্রতিফলন এখন দেখা যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকায়। তিনি তখন থেকেই মার্কিন সীমান্তেও একই কৌশল প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ভেনেজুয়েলার এই সংকট এখন দেশটিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের স্মৃতি উসকে দিচ্ছে। ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য দেশটিতে একটি মার্কিনপন্থী সরকার প্রতিষ্ঠা করা এবং দেশটির বিশাল খনিজ তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। তবে ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এই খেলা শুরু করা যতটা সহজ, এর শেষটা ততটাই জটিল হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
ভেনেজুয়েলার এই ঘটনার প্রভাব কেবল কারাকাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি মেক্সিকো বা কিউবার মতো দেশগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা। ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যে ১৮২৩ সালের ‘মনরো ডকট্রিন’-এর একটি আধুনিক ও কঠোর সংস্করণ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যা পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রভাব বজায় রাখার চূড়ান্ত দাবি করে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ’ এখন ল্যাটিন আমেরিকার ‘মাদক-সন্ত্রাসবিরোধী’ যুদ্ধে রূপ নিতে শুরু করেছে।
| পরবর্তী সম্ভাব্য লক্ষ্য | ট্রাম্পের দাবিকৃত কারণ বা অজুহাত | সম্ভাব্য প্রভাব |
|---|---|---|
| মেক্সিকো | মাদক কার্টেল ও অপরাধী চক্রের নিয়ন্ত্রণ | সীমান্ত উত্তেজনা ও সরাসরি হস্তক্ষেপের ঝুঁকি |
| কিউবা | আদর্শিক বিরোধ ও মার্কিন স্বার্থের পরিপন্থী শাসন | অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি |
| গ্রিনল্যান্ড | ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদ | ডেনমার্কের সাথে কূটনৈতিক টানাপড়েন |
| পানামা খাল | কৌশলগত ও বাণিজ্যিক নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ | আন্তর্জাতিক নৌ-বাণিজ্যে মার্কিন একাধিপত্য |
ট্রাম্পের ‘প্ল্যান এ’ অনুযায়ী মাদুরোর উত্তরসূরি হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে বেছে নেওয়া হলেও, তিনি শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের এই দখলদারিত্বের কড়া সমালোচনা করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ট্রাম্পের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ট্রাম্পের এই ঝটিকা সামরিক অভিযানের সাফল্য যদি দীর্ঘস্থায়ী না হয়, তবে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক কৌশলগত বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে। যে ট্রাম্প একসময় অন্তহীন যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলেন, আজ তাঁর নেতৃত্বেই যুক্তরাষ্ট্র এক নতুন ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
সুত্র:দ্য গার্ডিয়ান