খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩২ | ২৪ই মে ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার ভেদালি গ্রামে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একরামুল মুন্সি (৪৮) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বিএনপি নেতা আকতার হোসেন ধর্ষণের ঘটনাটি ৬ হাজার টাকায় আপস করার চেষ্টা করেছেন।
ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, গত ২০ মে বিকেলে একরামুল মুন্সি ১০০ টাকার প্রলোভনে তরুণীকে একটি ভুট্টা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। টাকা দেওয়ার সময় তরুণী চিৎকার শুরু করলে অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যান।
তরুণীর বাবা জানান, ঘটনার বিচার চেয়ে তিনি ২২ মে সকালে আদালতে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় রাতোর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আকতার হোসেনের চাপে তাঁর ভাই তাঁকে আদালত থেকে ফিরিয়ে আনেন। পরে রাতে একটি সালিশ বৈঠকে ৬ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। পরিবারটি সেই আপসে রাজি হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে বিএনপির কিছু নেতা অভিযুক্তের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সালিশে উপস্থিত একজন ব্যক্তি জানান, ভুক্তভোগী পরিবার চাইছিল অভিযুক্তকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রামে ঘোরানো হোক অথবা তরুণীকে বিয়ে করুক, কিন্তু সালিশে তা হয়নি।
বিষয়টি অস্বীকার করলেও আকতার হোসেন স্বীকার করেছেন যে, ‘মেয়েটার হাত ধরা হয়েছিল, তাই মীমাংসা করেছি।’ তবে তরুণীর বাবাকে আদালত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
অভিযুক্ত একরামুল মুন্সিকে তার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর মেয়ে দাবি করেন, তরুণী স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন এবং তাকে টাকা দেওয়ার কথাই হয়েছে, ধর্ষণের অভিযোগ ভিত্তিহীন।
রানীশংকৈল থানার ওসি আরশেদুল হক জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।