খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৬ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ৫০ বছর পর হলেও বিচার নিশ্চিত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, হামলায় অংশ নেওয়া, উসকানি দেওয়া এবং পরিকল্পনায় যুক্ত থাকা প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে।
রোববার (২৫ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “সময়ের পরিক্রমায় এই ঘটনার বিচার আমরা নিশ্চিত করবই। আজ হোক বা ৫০ বছর পরে হোক—যারা হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যারা উসকানি দিয়েছেন এবং পরিকল্পনা করেছেন—প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা তাদের শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চেয়েছিল, তবে তা সফল হয়নি। তার ভাষায়, “আমাদের হত্যা করলেও আমাদের কথা থেমে যাবে না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও এই ঘটনার কথা বলবে। আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
ডাকসুর এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতা বা হামলার ঘটনাগুলোর পর তারা প্রতিবাদ জানালেও অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিতে সাহস পাননি। তিনি দাবি করেন, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নীরবতা দেখা গেছে।
তিনি বলেন, “যারা এই হামলায় জড়িত, তারা বিষয়টি নিয়ে উল্লাস করেছে। কিন্তু এই উল্লাস স্থায়ী হবে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।”
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার কন্যা জাইমা রহমানের নামে আপত্তিকর পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে। ওই পোস্টকে ভুয়া দাবি করে এর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
পরে এ ঘটনায় ডাকসুর সদস্য এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ থানায় গেলে সেখানে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন পক্ষ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
ডাকসু নেতাদের বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং হামলার ঘটনার বিচার ও দায়ীদের শনাক্তের দাবি আবারও সামনে এসেছে।