খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
চলতি ডিসেম্বর মাসের প্রথম ২৭ দিনে বাংলাদেশে প্রেরিত বৈদেশিক প্রবাসী রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২,৭৫১.৯১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, এই সময়ে সাতটি ব্যাংক কোনো রেমিট্যান্স গ্রহণ করতে পারেনি।
রিপোর্টে শূন্য রেমিট্যান্স রেকর্ড করা ব্যাংকগুলো হলো:
বিশেষায়িত ব্যাংক: রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (RAKUB)
বেসরকারি ব্যাংক: পদ্মা ব্যাংক পিএলসি, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক
বিদেশি ব্যাংক: আল বারাকা ব্যাংক, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া
রেমিট্যান্স প্রবাহকে ব্যাংকের ধরন অনুযায়ী বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বেসরকারি ব্যাংকগুলো প্রাধান্য বজায় রেখেছে, যেখানে বিদেশি ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর অংশীদারিত্ব তুলনামূলকভাবে নগণ্য।
| ব্যাংকের ধরন | প্রাপ্ত রেমিট্যান্স (মিলিয়ন USD) | মোটের অংশ (%) |
|---|---|---|
| রাষ্ট্রায়িত ব্যাংক | 463.59 | 16.8 |
| বিশেষায়িত ব্যাংক | 290.16 | 10.5 |
| বেসরকারি ব্যাংক | 1,992.50 | 72.4 |
| বিদেশি ব্যাংক | 5.92 | 0.2 |
| মোট | 2,751.91 | 100 |
পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট যে, বেসরকারি ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স খাতে প্রাধান্য বজায় রাখছে, প্রায় ৭২% অবদান রেখে। রাষ্ট্রায়িত ব্যাংকগুলোর অবদান প্রায় ১৭%, যেখানে বিশেষায়িত ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর অবদান তুলনামূলকভাবে সামান্য।
ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সাত ব্যাংকের শূন্য রেকর্ডের প্রধান কারণ হলো অপারেশনাল অদক্ষতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং জটিল লেনদেন প্রক্রিয়া। তারা সুপারিশ করছেন, এই ব্যাংকগুলোকে লেনদেন ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে, আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে এবং ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে।
অর্থনীতিবিদরা আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, প্রবাসী রেমিট্যান্স বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈদেশিক মুদ্রার উৎস। তাই রেমিট্যান্স প্রাপ্তি ও বিতরণ দ্রুত, নিরাপদ ও দক্ষ হওয়া অত্যাবশ্যক। শূন্য রেমিট্যান্স থাকা ব্যাংকগুলিতে আন্তর্জাতিক মানের রেমিট্যান্স সেবা সম্প্রসারণ একটি জরুরি চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ব্যাংকগুলোর রেমিট্যান্স পরিচালন ক্ষমতা বৃদ্ধি করলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী হবে। সরকার ও বেসরকারি ব্যাংকের সমন্বিত প্রচেষ্টা নিশ্চিত করতে পারে যে, রেমিট্যান্স দ্রুত এবং নিরাপদভাবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রবাহিত হবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেনদেন সহজীকরণ এবং গ্রাহক সেবা উন্নত করা রেমিট্যান্স খাতে টেকসই বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।