চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নে কৃষিজমির মাটি কেটে অবৈধভাবে তৈরি গভীর ডোবার পানিতে পড়ে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনার তিন দিন পার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহত শিশুদের পরিবার প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমির মাটি কেটে রাতের আঁধারে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছে। এর ফলে জমিগুলোতে বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়ে তা বিপজ্জনক জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। এসব স্থানে কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী বা সতর্কীকরণ চিহ্ন না থাকায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
গত রবিবার (৫ এপ্রিল) দুপুরে মাদরাসা ছুটির পর বাড়ি ফেরে হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের করিম বাড়ির হাবিবুর রহমানের মেয়ে সাকী আক্তার (৯) এবং একই এলাকার জাকির হোসেনের মেয়ে সানজিদা আক্তার (১০)। বাড়ি ফেরার পর তারা পাশের কৃষিজমিতে খেলতে যায়। সেখানে ইটভাটার জন্য মাটি কাটার কারণে তৈরি প্রায় ২০ ফুট গভীর একটি গর্তে জমে থাকা পানিতে অসাবধানতাবশত পড়ে যায় তারা।
দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে ওই ডোবা থেকে দুই শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত শিশুদের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, প্রভাবশালী মাটিখেকো চক্রের কারণে তারা আগে থেকেই ঝুঁকির কথা জানিয়ে বাধা দিলেও হুমকি-ধমকি পেয়েছে। তাদের দাবি, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং অব্যবস্থাপনা ও অবৈধ কার্যক্রমের ফল।
নিহত শিশুদের পিতা হাবিবুর রহমান ও জাকির হোসেন বলেন, লোভের কারণে তাদের সন্তানদের জীবন চলে গেছে। তারা আরও বলেন, ঘটনার পর তিন দিন পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় একাধিক জায়গায় এভাবে কৃষিজমি কেটে গভীর গর্ত তৈরি করা হয়েছে, যা বর্ষা মৌসুমে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| বিষয় |
তথ্য |
| স্থান |
হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম |
| তারিখ |
৫ এপ্রিল |
| নিহত শিশু |
সাকী আক্তার (৯), সানজিদা আক্তার (১০) |
| ঘটনার ধরন |
অবৈধভাবে খনন করা ডোবায় পড়ে মৃত্যু |
| গভীরতা |
প্রায় ২০ ফুট |
| প্রধান অভিযোগ |
অবৈধ মাটি কাটা ও নিরাপত্তাহীন গর্ত |
| বর্তমান অবস্থা |
তদন্তের আশ্বাস, কিন্তু ব্যবস্থা অনুপস্থিত |
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা দ্রুত অবৈধ মাটি কাটা বন্ধ এবং বিপজ্জনক গর্তগুলো ভরাটের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।