খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নওগাঁ সদর উপজেলার কাটখইর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার আগে নির্ধারিত রেজাল্ট শিটে স্বাক্ষর এবং সিল দিয়ে রাখার অভিযোগে এক প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যাহারকৃত কর্মকর্তার নাম নাজিম উদ্দীন। তিনি নওগাঁ সড়ক ও জনপথ বিভাগে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। ঘটনার খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন।
নির্বাচনী সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, ভোটগ্রহণ চলাকালীন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নাজিম উদ্দীন ফলাফল শিটে নিজের স্বাক্ষর এবং পদবিসহ সিল মেরে রাখেন। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শেষে পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতিতে গণনা সম্পন্ন হওয়ার পর ফলাফল শিটে স্বাক্ষর ও সিল করার নিয়ম রয়েছে। তাই ভোট শেষ হওয়ার আগে স্বাক্ষর করা প্রক্রিয়াটি নির্বাচনী শৃঙ্খলার পরিপন্থী ও কারচুপির পূর্ব-প্রস্তুতির প্রমাণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
নাজিম উদ্দীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল প্রস্তুত করতে অনেক সময় লাগে। কাজের সুবিধার্থে ও সময় সাশ্রয়ের চিন্তা থেকে আমি আগেই স্বাক্ষর করেছি। তবে এটি নিয়মসিদ্ধ কি না, তা আমার জানা ছিল না।”
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন বলেন, “ভোট গণনার আগে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর করার কোনো বিধান নেই। এটি স্পষ্ট অনিয়ম। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে ওই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার পরিবর্তে কেন্দ্রে নতুন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।”
নিচের টেবিলে ঘটনার মূল তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা স্থল | কাটখইর উচ্চ বিদ্যালয়, নওগাঁ সদর উপজেলা |
| তারিখ ও সময় | ১২ ফেব্রুয়ারি, দুপুর ১২টা |
| অভিযুক্ত কর্মকর্তা | নাজিম উদ্দীন, উপসহকারী প্রকৌশলী |
| দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার | দুপুর ১টা, ইউএনও মোহাম্মদ ইবনুল আবেদিন নির্দেশে |
| অভিযোগ | ভোট গণনার আগে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর ও সিল করা |
| বিকল্প ব্যবস্থা | নতুন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগ |
এই ঘটনার ফলে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার গুরুত্ব পুনরায় সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনকালীন যে কোনো ধরণের অনিয়ম প্রতিরোধে কেন্দ্র পর্যায়ে কঠোর নজরদারি অপরিহার্য।