খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানী ঢাকা শহর একটি সম্ভাব্য ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টরেখায় যদি ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তবে ঢাকা শহরের প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে দুই লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) নিজেদের সমীক্ষার মাধ্যমে এই ভয়াবহ প্রক্ষেপণটি প্রকাশ করেছে। রাজধানীর ভবনগুলো ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুযায়ী নির্মাণ করা এবং নগর পরিকল্পনার দায়িত্ব থাকলেও, ভূমিকম্পের সম্ভাব্য প্রভাব উদ্বেগজনক।
সাম্প্রতিক ভূমিকম্পগুলোর পর, রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে ‘ভূমিকম্পের ঝুঁকি হ্রাসে প্রস্তুতি ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান, সরকারে দুজন উপদেষ্টা, জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রতিনিধি এবং ভূমিকম্প ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা।
পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে রাজধানীর সব ভবনের ঝুঁকি মূল্যায়নের কাজ শুরু করতে হবে। যেখানে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে, সেখানে কোনো রকম ছাড় দেওয়া যাবে না এবং প্রয়োজন হলে রাজউককে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক বলেন, মধুপুর ফল্টে বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহরের ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৯টি ভবন ধসে পড়তে পারে। এতে প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতি হবে। ভবন মেরামত বা পুনর্নির্মাণে আরও ৪ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।
এই সমীক্ষা ‘আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট’ (২০১৫-২০২৪) এর রাজউক অংশের মাধ্যমে ৫৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়েছে। ইতিহাসে দেশটি ১৮৮৫ সালে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের মধ্য দিয়ে গেছে, কিন্তু মধুপুর ফল্টে এরপর এত বড় ঘটনা ঘটেনি।