খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস প্রায় ৫৯ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তবে তিনি অভিযোগ করেছেন, তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এই এলাকায় ভোট “ইঞ্জিনিয়ারিং” করে অতিরিক্ত ভোট পেয়েছেন।
মির্জা আব্বাস শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জুমার নামাজের পর রাজধানীর শাহজাহানপুরে নিজের পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এই আসনে তাদের এত ভোট নেই, তারা ইঞ্জিনিয়ারিং করে এত ভোট পেয়েছে। এটা জাতির জন্য ভয়ংকর একটি সংকেত। আমরা এই ধরনের অনিয়ম নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হিসেবে গণ্য করি।”
মির্জা আব্বাসের মতে, নির্বাচনের ফলাফল যদিও আনন্দদায়ক, তবে কিছু ব্যালট বাতিল হওয়া অনিয়মিত ও ন্যায়সঙ্গত নয়। তিনি আরও বলেন, “ব্যালট বাতিল হওয়া অন্যায় হয়েছে। আমরা এগুলো পুনঃগণনার জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছি। আশা করছি, জনগণ এই রায়ের সঠিক প্রতিফলন দেখতে পাবেন। ইনশাআল্লাহ।”
তিনি দেশের প্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উল্লেখ করে বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও তাদের পরবর্তী প্রজন্মের সঙ্গে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছি। এই ইতিহাস আমাদের জন্য গর্বের। আমাদের রাজনীতি মূলত জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।”
নিম্নলিখিত টেবিলে ঢাকা-৮ আসনের নির্বাচনী ফলাফল সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| প্রার্থী | রাজনৈতিক দল | মোট ভোট সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| মির্জা আব্বাস | বিএনপি | 59,366 | বেসরকারিভাবে বিজয়ী |
| নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী | এনসিপি | 54,127 | ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ |
| অন্যান্য প্রার্থী | বিভিন্ন | 4,512 | – |
| বাতিলকৃত ব্যালট | – | 1,234 | যুক্তির দাবিতে আবেদন করা হয়েছে |
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, “আমি বারবার বলেছিলাম, তারা এখানে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করবে। তারা এটি করেছে। কিভাবে করেছে তা আমরা বুঝতে পারছি। এটি দেশের জন্য খুবই খারাপ একটি লক্ষণ। আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও স্বচ্ছ করতে হবে, যাতে জনগণ বিশ্বাস রাখতে পারে।”
তিনি সমগ্র দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, “সবাই ভোট দিয়েছে। এই রায় ঐতিহাসিক। জনগণ এই নির্বাচনের প্রকৃত প্রতিফলন দেখতে পাবেন। আমাদের আশা, আগামী দিনগুলোতে ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হবে। আমরা চাই, প্রতিটি ভোটের মান সম্মান নিশ্চিত হোক এবং ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত থাকুক।”
মির্জা আব্বাস আরও মন্তব্য করেছেন যে, “রাজনীতিতে সততা, জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বজায় রাখা আবশ্যক। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পরিবেশে বড় হতে হবে।”