ঢাবিতে ‘জুলাই কন্যা দিবস’ ঘিরে স্লোগানে মুখর রাজপথ
প্রকাশ: 31শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
এক বছর আগে, ১৪ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তার সেই বক্তব্যের প্রতিবাদে সেদিন রাতেই উত্তাল হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। রাজপথে মুখর হয়ে উঠেছিল শিক্ষার্থীদের কণ্ঠ—‘তুমি কে, আমি কে – রাজাকার রাজাকার’, ‘চাইতে এলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার’।
স্মৃতি হয়ে থাকা সেই প্রতিবাদের দিনটিকে স্মরণ করে সোমবার (১৪ জুলাই) ‘জুলাই কন্যা দিবস’র আয়োজন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। দিবসটিকে কেন্দ্র করে হাজারো শিক্ষার্থী ঢাবি ক্যাম্পাসে জমায়েত হন এবং রাজপথে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন।
এবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। মঞ্চে উঠে তিনি উচ্চস্বরে বলেন—‘তুমি কে, আমি কে – রাজাকার রাজাকার’, ‘কে বলেছে, কে বলেছে – স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’, ‘বাংলা কী তোর বাপ-দাদার?’ এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’।
এর আগে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পশ্চিম আকাশজুড়ে আলোর ঝলকে শুরু হয় ব্যতিক্রমধর্মী ড্রোন প্রদর্শনী। রংবেরঙের প্রায় ২ হাজার ড্রোনের মাধ্যমে ফুটে ওঠে সাম্প্রতিক ইতিহাসের নানা অনিয়ম, নির্যাতন ও নৈরাজ্যের চিত্র।
ড্রোন প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হয় বিডিয়ার বিদ্রোহ, গুম হওয়া ইলিয়াস আলী, আরমান, মাইকেল, সুমন, আবরার ফাহাদের মতো ঘটনা। ভেসে ওঠে শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, ‘লাইলাতুল ইলেকশন’, ‘পোস্ট ডিলিট করো’, ‘তাহলে কি রাজাকারের নাতিপুতিরা পাবে?’—এর মতো বার্তা।
প্রায় ১০ মিনিটব্যাপী প্রদর্শনীর শেষাংশে আকাশজুড়ে জ্বলজ্বলে স্লোগান—‘তুমি কে, আমি কে – জন্মভূমি অথবা মৃত্যু’, ‘শোনো মহাজন, আমরা অনেকজন’। ধীরে ধীরে ড্রোনগুলো ম্লান হয়ে গেলে শেষ হয় এই প্রতীকি আয়োজন।
আয়োজকরা জানান, জুলাই কন্যা দিবস কেবল প্রতিবাদের দিন নয়, এটি নতুন প্রজন্মের চেতনা, ইতিহাস ও অধিকারবোধের জাগরণ।
খবরওয়ালা/আশ