খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আরও কয়েক দিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে—এমনটি জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে যেকোনো বেআইনি ও অনুমোদনহীন জনসমাবেশ, মিছিল কিংবা আন্দোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর করে তোলাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ কারণে নির্বাচনকালীন সময়কে অস্থিতিশীল করতে পারে—এমন কোনো কর্মসূচিকে অনুমোদন দেওয়া হবে না।
তফসিল ঘোষণার পর যেসব ব্যক্তি বা দল অনুমতি ছাড়াই সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ বা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়।
নির্বাচনকালে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য এবার রেকর্ডসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবে। সশস্ত্র বাহিনীসহ বিভিন্ন ইউনিট মিলিয়ে মোট প্রায় নয় লাখ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন—যা দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ মোতায়েন।
ইতোমধ্যে দেড় লাখ পুলিশ সদস্য বিশেষ নির্বাচনী প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন, যাতে ভোটের দিন সারাদেশে ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়।
নিচে নিরাপত্তা–সংক্রান্ত প্রস্তুতির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন,
“গত দেড় বছরে দুই হাজারের বেশি আন্দোলন ও বিক্ষোভে মানুষ তাদের দাবি-দাওয়া আমাদের কাছে জানিয়েছেন। ন্যায্য দাবিতে সরকার সবসময়ই আলোচনায় বসেছে এবং সমাধানের চেষ্টা করেছে। তবে আমরা এখন নির্বাচনের মুখোমুখি। তাই সকল দাবি-দাওয়া নির্বাচনের পর নতুন সরকারের কাছে উপস্থাপনের অনুরোধ করছি। নির্বাচনপূর্ব সময়ে উত্তেজনা সৃষ্টি বা পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা কেউ করবেন না—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের স্থিতিশীলতা, ভোটারদের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।