বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন সাড়া জাগাচ্ছেন তানজিদ হাসান। ওয়ানডেতে কি তিনি নিয়মিত এক নম্বর ওপেনার হবেন, তা এখনই আলোচনার বিষয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগের ম্যাচে উদ্বোধনী জুটি করেছিলেন সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান, যেখানে ১৭৬ রানের যৌথ ইনিংস বাংলাদেশের জয়ের পথ সুগম করেছিল। তানজিদ সেই সময় নিজের সর্বশেষ ৯ ইনিংসে মাত্র একবারই অর্ধশতক অর্জন করেছিলেন।
তাকে বাদ দিয়েই নতুন ওপেনিং জুটি চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশ, যা কার্যকরও হয়েছিল। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে মধ্যবর্তী চার মাসে চমৎকার ফর্মে ফিরে আসার পর তানজিদ আবার জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছেন সাফল্যের সঙ্গে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে নাহিদ রানারের বোলিংয়ে ১১৪ রানে অলআউট হয়েছে প্রতিপক্ষ। কিন্তু দলের বিজয় নিশ্চিত করেছে তানজিদের স্বাধীন ও সাবলীল ব্যাটিং, যা পাকিস্তান দলও প্রত্যাশা করেনি।
দলের কোচ মাইক হেসেন বলেন, “যখন ব্যাটসম্যান কম রান করে খেলবেন, তখন বোলাররা চাপ সৃষ্টি করতে পারেন না। আমরা চাই খেলোয়াড়রা একটু স্বাধীনভাবে খেলুক। তানজিদও তাই করেছেন।”
টি-টোয়েন্টিতে বর্তমানে তানজিদ দলের এক নম্বর ওপেনার। গত বছর এই সংস্করণে তিনি সবচেয়ে বেশি রান করেছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে খেলেছেন সেই মতোই—৪২ বলে ৬২ রান করে প্রথমবার ১৫০-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে অর্ধশতক করেন। ম্যাচ বাংলাদেশ জিতে যায় মাত্র ১৫.১ ওভারে।
তানজিদের জাতীয় দলে জায়গা নেওয়াটা আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় সৌম্য সরকারকে বাদ দিয়ে হয়েছে। প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। বিসিএল ওয়ানডে সংস্করণে ৪ ইনিংসে ৪৬.৭৫ গড়ে ১৮৭ রান করেছেন। তুলনায়, তিন ম্যাচ খেলা সৌম্য সরকারের সংগ্রহ মাত্র ১৮ রান।
নিচের টেবিলটি দেখায় সম্প্রতি তানজিদের তুলনামূলক পারফরম্যান্স:
| খেলোয়াড় | ম্যাচ | ইনিংস | রান | গড় | স্ট্রাইক রেট |
|---|---|---|---|---|---|
| তানজিদ হাসান | ৪ | ৪ | ১৮৭ | ৪৬.৭৫ | ১০৯.৩৬ |
| সৌম্য সরকার | ৩ | ৩ | ১৮ | ৬ | ৮৫.৭১ |
বাংলাদেশ এবার ২২ ওয়ানডে খেলবে, যেখানে র্যাঙ্কিংয়ে অন্তত সেরা নয়ে জায়গা করা এবং নতুন ব্যাটিং অর্ডার পরীক্ষা করার লক্ষ্য রয়েছে। লিটন দাস পাঁচে এবং মেহেদী হাসান মিরাজ সাত নম্বরে ব্যাট করবেন। ওপেনিংয়ে তানজিদের ভূমিকা এখনও নজর কাড়া।
টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডেতে কোনো সেঞ্চুরি না থাকলেও তানজিদের ভয়হীন, সাবলীল ব্যাটিং তাঁকে দলের অন্যান্য ব্যাটসম্যানদের থেকে এগিয়ে রাখে। এই সিরিজেই তিনি কি ওয়ানডেতে বাংলাদেশের এক নম্বর ওপেনার হিসেবে নিজের দাবিটা নিশ্চিত করবেন, তা দেখার অপেক্ষা। শুরুটা তিনি ইতিমধ্যেই মন্দ করেননি; বাকি দুই ম্যাচে পারফরম্যান্সই চূড়ান্ত উত্তর দেবে।