খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৩ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৩)। শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মজিদুল ইসলাম (২৪)। তিনি উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আলতাফ হোসেনের ছেলে।
র্যাব-১৩ সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, ডাকাতি ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধ দমনে সংস্থাটি নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান পরিচালনা করে থাকে। তারই অংশ হিসেবে তারাগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে কয়েক মাস ধরে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছিল।
র্যাবের গোয়েন্দা দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মজিদুল ইসলাম নিজ গ্রামে অবস্থান করছেন। এরপর শুক্রবার রাতে র্যাবের একটি আভিযানিক দল ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রংপুর র্যাবের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী জানান, আলোচিত এই জোড়া হত্যা মামলার পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে র্যাব দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আসছিল। সেই তৎপরতার অংশ হিসেবেই অভিযান চালিয়ে মজিদুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সহিংস অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রুপলাল রবিদাস (৪০) ছিলেন মামলার বাদীর স্বামী এবং নিহত প্রদীপ লাল (৪৫) সম্পর্কে তার ভাতিজি জামাই। ২০২৫ সালের ৯ আগস্ট রাতে তারা ভ্যানযোগে মিঠাপুকুর উপজেলার গোপালপুর ছরান বালুয়া এলাকা থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রাত আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে তারা তারাগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের সন্দেহ করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে ভিকটিমদের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশির সময় ব্যাগের ভেতর থেকে দুর্গন্ধযুক্ত একটি পানীয় পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, ওই পানীয়ের তীব্র গন্ধে উপস্থিত কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর উপস্থিত লোকজন ভিকটিমদের চোর বা অপরাধী সন্দেহ করে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। রাত প্রায় ৯টার দিকে তাদের বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গিয়ে লাঠি, সোটা ও লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এতে তারা গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুপলাল রবিদাসকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত প্রদীপ লালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ১০ আগস্ট তিনি মারা যান।
ঘটনার পরদিন নিহত রুপলাল রবিদাসের স্ত্রী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামাসহ কয়েকজনকে আসামি করে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। নৃশংস এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
নিচে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা | গণপিটুনিতে জোড়া হত্যা |
| ঘটনার তারিখ | ৯ আগস্ট ২০২৫ |
| স্থান | বুড়িরহাট বটতলা মোড়, তারাগঞ্জ, রংপুর |
| নিহত | রুপলাল রবিদাস (৪০), প্রদীপ লাল (৪৫) |
| মামলা দায়ের | ১০ আগস্ট ২০২৫ |
| গ্রেপ্তার আসামি | মজিদুল ইসলাম (২৪) |
| গ্রেপ্তারকারী সংস্থা | র্যাব-১৩ |
| গ্রেপ্তারের তারিখ | ১৩ মার্চ |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মামলার বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।