খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
তাশফী সম্প্রতি তার সংগীতজীবনে এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন, যেখানে তিনি প্রথমবারের মতো ভারতীয় চলচ্চিত্র সংগীতের জগতে কাজ করার সুযোগ পান। “সাজন রে” শীর্ষক একটি গানের মাধ্যমে তার এই যাত্রা শুরু হয়, যা ধীরে ধীরে একটি বৃহৎ ও তারকাসমৃদ্ধ সংগীত প্রকল্পে রূপ নেয়।
তাশফী জানান, পুরো বিষয়টির শুরু হয়েছিল একান্তই বন্ধুত্বের সূত্র ধরে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সঞ্জয় দেবের কাজের ভক্ত ছিলেন। হঠাৎ করেই তিনি স্টুডিওতে গান রেকর্ড করার আমন্ত্রণ পান। তখনো গানটির চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত ছিল না। পরবর্তীতে এই কাজটি আরও বিস্তৃত হয়ে যায় এবং এতে যুক্ত হন বাদশাহ ও নোরা ফাতেহির মতো পরিচিত মুখ।
তিনি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, শুরুতে কোনো কিছুই নির্দিষ্ট ছিল না। পরিকল্পনা বদলাতে বদলাতে প্রকল্পটি একটি বড় আকার নেয়। তবুও এই অভিজ্ঞতা তার কাছে চাপের নয়, বরং আনন্দদায়ক ছিল। তিনি এটিকে “অত্যন্ত আনন্দের” একটি অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেন।
এই কাজটি তাশফীর সংগীতজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ এটি তাকে প্রথমবারের মতো বলিউড সংগীতজগতে পরিচিত নামগুলোর সঙ্গে একই মঞ্চে নিয়ে আসে। পাশাপাশি এটি তার পূর্বের কাজের ধারাবাহিকতা থেকেও একটি বড় অগ্রগতি নির্দেশ করে। তিনি আগেও বিভিন্ন সংগীত প্ল্যাটফর্মে কাজ করেছেন, বিশেষ করে “উইন্ড অব চেঞ্জ” নামক একটি প্রোগ্রামে তার অংশগ্রহণ শ্রোতাদের কাছে তাকে পরিচিত করে তোলে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে নিজেকে প্রমাণ করার একটি চাপ ছিল, এখন তিনি বিষয়টিকে আরও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করেন। শ্রোতাদের কাছ থেকে “বাংলাদেশের অ্যাডেল” নামে পরিচিতি পেলেও তিনি এটিকে শুধু তুলনা হিসেবেই দেখেন, নিজের পরিচয়কে আলাদা রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
তিনি আরও বলেন, তার ভেতরে এখন অনেক নতুন গান ও গল্প রয়েছে, যা তিনি ভবিষ্যতে প্রকাশ করতে চান। সংগীতের মাধ্যমে গল্প বলার ক্ষেত্রে তার বোঝাপড়াও আগের তুলনায় অনেক গভীর হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, সংগীত কেবল বিনোদন নয়, এটি অনুভূতি প্রকাশের একটি মাধ্যম।
নতুন শ্রোতাদের কাছে তিনি চান তার কণ্ঠ একটি আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি করুক। তার লক্ষ্য শ্রোতাদের আবেগ স্পর্শ করা এবং একই সঙ্গে বিনোদন দেওয়া।
বাংলাদেশি শিল্পীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়ছে—এই প্রেক্ষাপটে তাশফী এটিকে একদিকে যেমন সম্ভাবনা হিসেবে দেখেন, অন্যদিকে তেমনি বাস্তব চ্যালেঞ্জও উপলব্ধি করেন। দেশের ভেতর থেকেই একটি সংগীতজীবন গড়ে তোলা সহজ নয় বলে তিনি মনে করেন, তবে এই বাধাগুলো তাকে আরও দৃঢ় করেছে।
নিচে তার সংগীতযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| পর্যায় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রাথমিক পরিচিতি | বিভিন্ন সংগীত প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণ |
| বড় পরিচিতি | “উইন্ড অব চেঞ্জ”–এ অংশগ্রহণ |
| গুরুত্বপূর্ণ মোড় | সঞ্জয় দেবের সঙ্গে “সাজন রে” প্রকল্পে যুক্ত হওয়া |
| আন্তর্জাতিক সংযোগ | বাদশাহ ও নোরা ফাতেহির সঙ্গে একই গানে কাজ |
| বর্তমান অবস্থান | বলিউড সংগীতে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ অভিষেক |
সবশেষে তাশফী নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বলেন, তিনি এমন সুযোগ চান যা তাকে নতুন নতুন গান ও সৃষ্টির পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তার ভাষায়, সংগীতজীবনের পরবর্তী ধাপটি তার জন্য সবসময়ই নতুন কিছু ভাবার একটি যাত্রা।