খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে এক কোটি টাকার বেশি জমা আছে এমন হিসাবধারীর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, এই বছরের মার্চ শেষে যেখানে এমন অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি, জুন শেষে তা বেড়ে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, মাত্র তিন মাসে নতুন করে ৫,৯৭৪টি কোটি টাকার হিসাব যুক্ত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা গেছে, জুন শেষে ব্যাংক খাতে মোট অ্যাকাউন্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৬৭১টি। মার্চ শেষে এই সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৫৭ লাখ ৬৮ হাজার ২১টি। এর অর্থ, তিন মাসে প্রায় ৩২ লাখ ৯৫ হাজার ৮৫০টি নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। একই সময়ে ব্যাংকগুলোতে মোট জমার পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর সব হিসাব মিলিয়ে মোট আমানত ছিল ১৯ লাখ ২৩ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা, যা জুন শেষে বেড়ে হয়েছে ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, তিন মাসে আমানত প্রায় ৭৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকা বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবগুলোর জমার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মার্চ শেষে এই ধরনের অ্যাকাউন্টগুলোতে মোট ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকা জমা ছিল। জুন শেষে তা বেড়ে ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ফলে তিন মাসে কোটিপতি অ্যাকাউন্টগুলোতে আমানত প্রায় ৯৭ হাজার ১১৯ কোটি টাকা বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, কোটি টাকার হিসাব থাকলেই যে সব ব্যক্তি কোটিপতি— এমনটা নয়। অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানও এক কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা রাখে। এছাড়াও, একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একাধিক ব্যাংক হিসাব খুলতে পারেন, যার কারণে একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একাধিক কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে।
কোটিপতি অ্যাকাউন্টের এই বৃদ্ধি একদিনের প্রবণতা নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে মাত্র ৫ জন কোটি টাকার আমানতকারী ছিল। ১৯৭৫ সালে এই সংখ্যা ৪৭ জনে দাঁড়ায়। ১৯৮০ সালে কোটি টাকার হিসাব ছিল ৯৮টি।
পরবর্তীতে, ১৯৯০ সালে তা বেড়ে ৯৪৩টি হয়। ১৯৯৬ সালে এই সংখ্যা ২,৫৯৪টি, ২০০১ সালে ৫,১৬২টি এবং ২০০৬ সালে ৮,৮৮৭টিতে উন্নীত হয়। ২০০৮ সালে এই সংখ্যা আরও বেড়ে ১৯,১৬৩টি হয়।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে দেশে কোটি টাকার হিসাব ছিল ৯৩,৮৯০টি। এক বছরের ব্যবধানে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে হয় ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬টি। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কোটি টাকার অ্যাকাউন্ট দাঁড়ায় ১ লাখ ৯ হাজার ৯৪৬টি। এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে ১ লাখ ১৬ হাজার ৯০৮টিতে পৌঁছায়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ১ লাখ ২১ হাজার ৮১টিতে দাঁড়ায়। চলতি বছরের মার্চ শেষে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৩৬২টি, যা জুন শেষে ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টিতে এসে দাঁড়িয়েছে।
খবরওয়ালা/টিএসএন