খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ মে ২০২৫
আবারও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) হাজির হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি চার সদস্যের অনুসন্ধান দল। শনিবার (১৭ মে) বিকেলে বিসিবি কার্যালয়ে অভিযান চালায় দুদকের এই দল। এবার তাদের নজরে রয়েছে গঠনতন্ত্র সংশোধনের মাধ্যমে তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগে দল বাছাই প্রক্রিয়া, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর) ভেঙে অর্থ স্থানান্তর এবং স্বচ্ছতার প্রশ্ন।
অনুসন্ধানের নেতৃত্বে থাকা সহকারী পরিচালক রাজু আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন দপ্তর থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করেছি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অনুসন্ধান এখনো শেষ হয়নি, কয়েকটি বিষয় আরও খতিয়ে দেখা বাকি।’
দুদক সূত্র জানায়, বিসিবির সাম্প্রতিক গঠনতন্ত্র সংশোধনের ফলে তৃতীয় বিভাগে দল অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে। এতে কিছু নির্দিষ্ট দল সুবিধা পেলেও অনেক দল বঞ্চিত হয়েছে। এ বিষয়ে রাজু আহমেদ বলেন, “আগে তুলনামূলক সহজ নিয়ম থাকলেও ২০২২ সালে নতুন শর্ত আরোপ করে সুযোগ সীমিত করা হয়। এর প্রভাব পড়েছে পাইপলাইনে—জাতীয় দলের সম্ভাব্য ক্রিকেটার তৈরির ক্ষেত্রটি সংকুচিত হয়ে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে এমন কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাবনাময় দল ও খেলোয়াড়দের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিষয়গুলো যাচাই করে দেখছি, এখনই কারও নাম বলছি না।’
এছাড়া বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর একাধিক এফডিআর ভেঙে নতুন কিছু ব্যাংকে অর্থ বিনিয়োগ করা হয়। সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে দুদক কর্মকর্তা বলেন, ‘কীভাবে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে, কারা এতে অনুমোদন দিয়েছেন, আর গঠনতন্ত্র এই বিষয়ে কী বলে—সব কিছু আমরা যাচাই করব। বিসিবির দাবি অনুযায়ী তারা তিন ধরনের নিরাপদ ব্যাংকে অর্থ রেখেছে, সেটি যুক্তিসংগত কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে।’
তালিকাভুক্ত ৬৯টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। যদিও টেন্ডার প্রক্রিয়া এই তদন্তের মূল অংশ নয়, তবে ভবিষ্যতে তা নিয়েও অনুসন্ধান হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন রাজু আহমেদ। তিনি বলেন, ‘টেন্ডার অবশ্যই স্বচ্ছভাবে হওয়া উচিত। আজকের অনুসন্ধান অন্য বিষয়কেন্দ্রিক হলেও পুরোনো অভিযোগগুলোকেও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।’
বিসিবির মতো একটি দেশের প্রধান ক্রীড়া সংগঠনকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে দুদক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি। ‘আমরা চাই বিসিবি আরও স্বচ্ছ, সংগঠিত এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠান হোক, যেখান থেকে ভবিষ্যতের তারকা ক্রিকেটার তৈরি হবে। যারা অনিয়মে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে—যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্বলতা আর না ঘটে।’
দুদকের অনুসন্ধান চলাকালেই বিসিবি কার্যালয়ে উপস্থিত হন বোর্ড সভাপতি ফারুক আহমেদ, প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী এবং অর্থ বিভাগের প্রধান আব্দুল মান্নান। তবে তারা কেউই গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।
খবরওয়ালা/এন