খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ায় সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বৈশ্বিক আর্থিক বাজার, শেয়ারবাজার এবং বন্ড বাজারেও নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।
রোববার সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জেনারেটর ইউনিটে আগুন ধরে যায় এবং সাময়িকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই ঘটনার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও গভীর হয়।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে দ্রুত উত্থান দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ দশমিক ৬৩ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম টেক্সাস মধ্যমানের তেলের দাম বেড়ে ১০৬ দশমিক ৪২ ডলারে দাঁড়ায়, যা প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিচালিত হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
একাধিক গবেষণা সংস্থা সতর্ক করে বলছে, প্রণালিটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের মজুত দ্রুত হ্রাস পেতে পারে এবং দাম অল্প সময়েই অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। কিছু পূর্বাভাস অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে ব্যারেলপ্রতি দাম ১৩০ থেকে ১৪০ ডলার এমনকি আরও বেশি হতে পারে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা আরও আশঙ্কা করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংকট দেখা দিলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপীয় অঞ্চল ও যুক্তরাজ্যে মূল্যস্ফীতি দ্বিগুণ অঙ্কের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার পুনরায় বাড়াতে বাধ্য করতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
| খাত | বর্তমান অবস্থা | পরিবর্তন |
|---|---|---|
| ব্রেন্ট ক্রুড তেল | ১১০.৬৩ ডলার প্রতি ব্যারেল | বৃদ্ধি ১.২ শতাংশ |
| পশ্চিম টেক্সাস তেল | ১০৬.৪২ ডলার প্রতি ব্যারেল | বৃদ্ধি ১ শতাংশ |
| যুক্তরাষ্ট্র দশ বছরের বন্ড | ৪.৫৮৪ শতাংশ | বৃদ্ধি ২৩ ভিত্তি পয়েন্ট |
| যুক্তরাষ্ট্র ত্রিশ বছরের বন্ড | ৫.১০৯ শতাংশ | উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি |
| জাপান শেয়ার সূচক | নিক্কেই সূচক | পতন ০.৪ শতাংশ |
| দক্ষিণ কোরিয়া বাজার | প্রধান সূচক | পতন ২.১ শতাংশ |
| এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় সূচক | সম্মিলিত সূচক | পতন ০.৬ শতাংশ |
বন্ড বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডে সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—এশিয়ার বেশিরভাগ বাজারে পতন ঘটলেও চীনের বাজার চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে।
অন্যদিকে, চীনের খুচরা বিক্রি ও শিল্প উৎপাদনের নতুন তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ভবিষ্যৎ সূচকেও দিনের শুরুতে পতন লক্ষ্য করা গেছে, যা বৈশ্বিক বিনিয়োগ মনোভাবের অনিশ্চয়তা নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিটি খাতে ছড়িয়ে পড়বে।