খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী-ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক কয়েক দিন আগেও ছিল যানবাহনের চাপে মুখরিত। প্রতিনিয়ত শত শত গাড়ির ভিড়ে এই সড়কে চলাচল ছিল বেশ কষ্টসাধ্য। কিন্তু জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে সেই চিরচেনা ব্যস্ত সড়ক এখন অনেকটাই নীরব ও ফাঁকা হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় অভ্যন্তরীণ কিছু যানবাহন চলাচল করলেও দূরপাল্লার যাতায়াত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনচালিত যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়েছে। চালকরা বলছেন, প্রয়োজন ছাড়া তারা এখন আর দীর্ঘ পথের যাত্রায় বের হচ্ছেন না।
সরেজমিনে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক সড়কে দেখা যায়, যানবাহনের আগের সেই চাপ আর নেই। সড়কের বেশিরভাগ অংশ এখন অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত যানবাহনের দখলে। তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ও দূরপাল্লার বাস-ট্রাকের চলাচল খুবই সীমিত। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এসব যানবাহন সড়কে খুব একটা দেখা যাচ্ছে না।
চালকরা জানান, পাম্পে গিয়ে জ্বালানি পাওয়া এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কখনো তেল পাওয়া যায়, আবার কখনো একাধিক পাম্প ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হয়।
বাইকচালক আজিজুল হক সৌরভ বলেন, “অনেক সময় পাম্পে গিয়ে তেল পাওয়া যায় না। মাঝে মাঝে তেল এলে তখনই নিতে হয়। জরুরি দরকার না হলে এখন আর বাইরে বের হই না।”
ট্রাকচালক জহুরুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে তারা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, “একাধিক পাম্প ঘুরেও তেল পাইনি। কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন শুনছি পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে। আমরা চাই দ্রুত সব ঠিক হয়ে যাক।”
এদিকে স্থানীয় পথচারীরাও বলছেন, সড়কে যানবাহন কমে যাওয়ায় চলাচল তুলনামূলক সহজ হয়েছে। আবুল বাশার নামের এক পথচারী বলেন, “আগে রাস্তা পার হওয়াই কঠিন ছিল। এখন অনেকটা স্বস্তিতে চলাচল করা যাচ্ছে। গাড়ির চাপ নেই বললেই চলে।”
পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | আগের অবস্থা | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| যানবাহনের চাপ | অত্যন্ত বেশি | অনেক কম |
| দূরপাল্লার যান | নিয়মিত চলাচল | প্রায় বন্ধ |
| জ্বালানি প্রাপ্যতা | সহজলভ্য | অনিয়মিত ও সংকটপূর্ণ |
| সড়ক পরিস্থিতি | যানজটপূর্ণ | তুলনামূলক ফাঁকা |
| যাত্রী চলাচল | স্বাভাবিক | সীমিত |
স্থানীয়দের মতে, জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। চালক ও যাত্রীরা আশা করছেন, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং সড়ক আবার আগের মতো ব্যস্ত হয়ে উঠবে।