খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩২ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মালয়েশিয়া থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পথে থাইল্যান্ডের উপকূলে পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩:৩০টার দিকে ফুকেট উপকূলের কাছাকাছি গভীর সমুদ্রে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম ‘এমভি সিলয়েড আর্ক’। এটি ১১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি জাহাজ এবং জাহাজটিতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মোট ২৯৭টি কনটেইনার পণ্য ছিল। জাহাজটি গত ৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার কেলাং বন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। মাত্র দুই দিনের মধ্যেই থাইল্যান্ড উপকূলের কাছে এটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
বাংলাদেশে জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট আলভি লাইন্স বাংলাদেশের ব্যবস্থাপক মো. মুকুল হোসেন জানান, ফুকেট উপকূল থেকে প্রায় চার নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি হঠাৎ কাত হয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার জটিলতা বিবেচনায় জাহাজের ক্যাপ্টেন জাহাজটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই নিকটবর্তী একটি মাছ ধরার নৌযান এবং থাই নেভির উদ্ধারকারী দল দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এতে জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার হওয়া নাবিকদের ফুকেটের একটি হোটেলে রাখা হয়েছে এবং তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার প্রাথমিক তথ্যসমূহ নিচের টেবিলে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| জাহাজের নাম | এমভি সিলয়েড আর্ক |
| জাহাজের দৈর্ঘ্য | ১১৫ মিটার |
| পতাকা | পানামা |
| যাত্রা শুরু | ৫ ফেব্রুয়ারি, কেলাং, মালয়েশিয়া |
| গন্তব্য | চট্টগ্রাম বন্দর, বাংলাদেশ |
| কনটেইনার সংখ্যা | ২৯৭ একক |
| দুর্ঘটনার তারিখ ও সময় | ৭ ফেব্রুয়ারি, বিকেল ৩:৩০ মিনিট |
| দুর্ঘটনার স্থান | ফুকেট উপকূল থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে |
| উদ্ধার হওয়া নাবিক সংখ্যা | ১৬ জন |
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে। জাহাজটিতে থাকা পণ্যের মূল্যায়ন এবং পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষার জন্য থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশি এজেন্টরা যৌথভাবে কাজ করছেন। স্থানীয় নৌ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন, নেভিগেশন ত্রুটি বা যান্ত্রিক ব্যর্থতার কারণে ঘটে থাকে।
এই দুর্ঘটনা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্র পথ ব্যবহারকারী বাণিজ্য জাহাজগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে, যাতে আগাম ব্যবস্থা নেওয়া যায় এবং যাত্রী ও পণ্য নিরাপদ রাখা যায়।