খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে আবারও শিনাওয়াত্রা পরিবারের প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন শিনাওয়াত্রার প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল ফিউ থাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তাঁর ভাতিজা ইয়দচানান ওংসাওয়াতকে প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। মঙ্গলবার দলীয়ভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়, যা দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
৭৬ বছর বয়সী থাকসিন শিনাওয়াত্রা বর্তমানে দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তবে কারাগারে থেকেও থাই রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব একেবারে ফুরিয়ে যায়নি—ফিউ থাই দলের সিদ্ধান্তই তার প্রমাণ। দলটি আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে ৪৬ বছর বয়সী ইয়দচানান ওংসাওয়াতকে সামনে এনেছে, যিনি একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সোমচাই ওংসাওয়াতের সন্তান এবং থাকসিনের বোন ইয়াওয়াপা ওংসাওয়াতের ছেলে।
মনোনয়ন পাওয়ার পর ইয়দচানান সাংবাদিকদের বলেন, শিনাওয়াত্রা পরিবারের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দলের ভেতরে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই ঐক্য জনগণের কল্যাণমূলক নীতিনির্ধারণে কাজে লাগবে। তিনি আরও জানান, থাইল্যান্ডের বর্তমান বাস্তবতায় সামাজিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে তাঁর প্রধান অগ্রাধিকার।
সাম্প্রতিক সময়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা ইস্যু নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ইয়দচানান স্পষ্ট করে বলেন, “সার্বভৌমত্ব আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব।” চলমান এই সংঘাতে উভয় দেশেই প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতি ঘটেছে, যা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
| বিষয় | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট নিহত | ৩২ জন |
| থাই সেনা নিহত | ১৬ জন |
| থাই বেসামরিক নিহত | ১ জন |
| কম্বোডীয় বেসামরিক নিহত | ১৫ জন |
| মোট বাস্তুচ্যুত মানুষ | প্রায় ৮ লাখ |
ইয়দচানানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় ২০১৪ সালে। তিনি শিনাওয়াত্রা পরিবারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত উত্তরাঞ্চলীয় চিয়াং মাই এলাকা থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে সে সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইংলাক শিনাওয়াত্রার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের কারণে ভোটকেন্দ্র অবরোধ হয় এবং আদালত নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করে।
রাজনীতির পাশাপাশি ইয়দচানান একজন প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাবিদ ও গবেষক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি থাইল্যান্ডের মাহিদোল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপনা করছেন। তাঁর নামে একাধিক চিকিৎসা প্রযুক্তির পেটেন্ট রয়েছে, যার মধ্যে ‘মস্তিষ্ক নিয়ন্ত্রিত হুইলচেয়ার’ এবং ‘মস্তিষ্কভিত্তিক ঘুম সতর্কতা ব্যবস্থা’ উল্লেখযোগ্য।
গত দুই দশক ধরে শিনাওয়াত্রা পরিবার থাইল্যান্ডের সামরিক ও রাজতান্ত্রিক অভিজাত গোষ্ঠীর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত। তাদের জনমুখী ও কল্যাণভিত্তিক রাজনীতি দেশটির প্রচলিত ক্ষমতার কাঠামোর জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হয়। ইয়দচানানের মনোনয়ন সেই পুরোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে নতুন মাত্রা দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।