খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
গুলশানে সাবেক এক নারী সংসদ সদস্যের বাড়িতে চাঁদাবাজির ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের চাকরি খেয়ে দেওয়া এবং থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। সে সময় পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উগ্র আচরণ করে নেতারা। ওই বাড়ির দারোয়ান এবং অপারেশনে অংশ নেওয়া একাধিক পুলিশ সদস্য এসব অভিযোগ তুলেছেন।
রবিবার (২৭জুলাই) গুলশানের সেই বাড়ির দারোয়ান হান্নান বলেন, ‘যখন তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন সমন্বয়করা পুলিশের চাকরি খেয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল।’
গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেওয়া একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘গ্রেপ্তার করে যখন তাদের হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হচ্ছিল, তখন তাদের আচরণ ছিল বেশ উগ্র। তারা নিজের লোকজন ডেকে থানায় আগুন দেওয়ার হুমকি পর্যন্ত দিচ্ছিল।’ যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাসরি কোনো উত্তর দেননি গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান। তিনি গতকাল রাতে বলেন, ‘তারা আমার সামনে এমন কিছু বলেছে বলে আমার মনে পড়ে না।’
শনিবার(২৬ জুলিই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের পাঁচ নেতা। গতকাল তাদের মধ্যে থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক ইব্রাহীম হোসেন মুন্না, সদস্য মো. সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বিন সুলাইমানকে (রিয়াদ) ৭ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। বাকি একজনের বয়স ১৬ বছর হওয়ায় তাকে শিশুকিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। তবে গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে থানা-পুলিশের কাছে শনিবার রাত থেকেই গুলশান ও আশপাশের এলাকার অনেকেই ফোন কলে আরও চাঁদাবাজির অভিযোগ দিচ্ছে।
এ বিষয়ে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গ্রেপ্তার সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে গুলশান, বাড্ডা, বনানী এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই ফোন দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলছেন। তবে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তাদের লিখিত অভিযোগ জানাতে বলেছি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব।’
খবরওয়ালা/এফএস