খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার ১০ জন যুবক দালালের প্ররোচনায় অবৈধভাবে সাগরপথে গ্রিস যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে নিহত হয়েছেন। তারা পরিবারে সচ্ছলতা আনার জন্য জমিজমা বিক্রি করে ইউরোপের স্বপ্নে পা বাড়িয়েছিলেন, কিন্তু স্বপ্নের দেশে পৌঁছার আগেই খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকাহত এবং দালালদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে জগন্নাথপুর উপজেলার ৫ জন, দিরাইয়ের ৪ জন এবং দোয়ারাবাজারের ১ জন রয়েছেন। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এই মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছাকাছি ২৬ জনের একটি নৌকায় দুর্ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে কমপক্ষে ১৮ জন বাংলাদেশি ছিলেন। শনিবার পরিবার ও স্থানীয় নেতারা বিভিন্ন সূত্রে বিষয়টি জানতে পারেন।
নিহতদের নাম ও উপজেলা অনুযায়ী তালিকা নিম্নরূপ:
| উপজেলা | গ্রামের নাম / মৃতকর্তার পিতা | নিহতের নাম ও বয়স | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| জগন্নাথপুর | পাইলগাঁও / হাবিবুর রহমান | আমিনুর রহমান, ৩৫ | নৌকায় থাকা অবস্থায় মৃত্যু |
| জগন্নাথপুর | টিয়ারগাঁও / আখলুছ মিয়া | শায়ক মিয়া, ২০ | দালালের মাধ্যমে অবৈধ প্রস্থান |
| জগন্নাথপুর | ইছগাঁও / মো. আলী | মো. আলী | ক্ষুধা ও পানির অভাবে মৃত্যু |
| জগন্নাথপুর | বাউরি / মো. সোহানুর রহমান | মো. সোহানুর রহমান | একই নৌকায় নিহত |
| জগন্নাথপুর | কবিরপুর / মো. নাঈম | মো. নাঈম | দালালের মাধ্যমে পাচার |
| দিরাই | কুলঞ্জ / মো. নুরুজ্জামান সর্দার | মো. নুরুজ্জামান সর্দার, ৩২ | দালালের মাধ্যমে গ্রিস উদ্দেশ্য |
| দিরাই | কারি ইসলাম উদ্দীন / মো. সাহান এহিয়া | মো. সাহান এহিয়া, ২২ | একই নৌকায় মৃত্যু |
| দিরাই | আব্দুল গণি / মো. সাজিদুর রহমান | মো. সাজিদুর রহমান, ২৬ | ক্ষুধা ও পানির অভাবে মৃত্যু |
| দিরাই | রাজানগর / আব্দুল মালেক | মুজিবুর রহমান, ৪০ | দালালের মাধ্যমে পাচার |
| দোয়ারাবাজার | দোহালিয়া / ফাহিম | ফাহিম | সাগরে মারা যাওয়া ব্যক্তি |
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নিহত যুবকরা দালালদের কাছে ১১–১২ লাখ টাকা প্রদান করেছিলেন এবং আগে লিবিয়া গিয়েছিলেন। দালালরা তাদের গেমঘরে রেখে ধাপে ধাপে গ্রিসে প্রেরণ করেছিল, কিন্তু খাবার ও পানির অভাবে নৌকায় অবস্থানরত অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।
জগন্নাথপুরের চিলাউড়া গ্রামের বাসিন্দা ঝিনুক মিয়া বলেন, “আমার ভাই নাঈম আহমদকে গেমঘরে নিয়ে নৌকায় তুলে দিয়েছে দালালরা। কয়েকদিন ধরে যোগাযোগ করতে পারছিলাম না, আজ শুনলাম সে সাগরে মারা গেছে। আমরা দালালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।”
চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, “আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি আমার ইউনিয়নের দুই যুবক সাগরে মারা গেছে। তারা গ্রিসে যাওয়ার জন্য দালালদের মোটা অংকের টাকা দিয়েছে। এখন পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে গেছে।”
সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের ডিআইও-১ মো. আজিজুর রহমান জানান, “আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি জগন্নাথপুর ও দিরাইয়ে ৮ জন মারা গেছেন। তবে আরো দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা খোঁজ-খবর চালাচ্ছি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করছি।”
এই ঘটনাটি অবৈধ পাড়ি এবং দালালের প্ররোচনা নিয়ে সতর্কবার্তা বহন করছে। স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবারগুলো ভবিষ্যতে এমন বিপজ্জনক অবৈধ যাত্রা রোধ করতে সচেষ্ট। এছাড়া নিহতদের পরিবারকে সহায়তা ও মানসিক সমর্থন দেয়ার জন্য স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্যোগী।