খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
দিল্লিতে আম আদমি পার্টির দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। ২৭ বছর পর ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।এএপির পরাজয়ের বিষয় নিয়ে মতামত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। দলটির পরাজয়ের কারণ হিসেবে সামনে এসেছে পাঁচটি বিষয় ।
আম আদমি পার্টির নেতারা সেসময় নানান রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়ে সামনে এসেও আজ নিজেদের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগে ভরপুর তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশিদ কিদওয়াই দলটির পরাজয়ের পাঁচটি প্রধান কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নারী ভোটারদের জন্য বিদ্যুৎ, পানি, পরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনা মূল্যে পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।কিন্তু বাস্তবে এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
মধ্যবিত্তের সমর্থন হারানো
একসময় এএপিকে সমর্থন দিয়েছিল দিল্লির মধ্যবিত্ত শ্রেণি, বিশেষ করে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে। কিন্তু এবার তারাই বিজেপির দিকে ঝুঁকেছে।
এ বিষয়ে কিদওয়াই বলেন, ‘দিল্লির মহাশক্তি মধ্যবিত্ত শ্রেণি আগে বিজেপিকে কেন্দ্রে এবং এএপিকে রাজ্যে সমর্থন দিয়েছিল। এবার তারা এএপির পাশে থাকেনি, ফলে দলটির ভোট ৯ শতাংশ কমেছে। হিসাবরক্ষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের মতো শিক্ষিত পেশাজীবীরা কেজরিওয়ালের আত্ম দুঃখবোধের রাজনীতি, সংঘাতমূলক অবস্থান এবং দুর্নীতির অভিযোগের কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন।’
এএপি-কংগ্রেস জোট না হওয়া
কংগ্রেস ও এএপি দিল্লিতে জোট গড়তে ব্যর্থ হয়েছে।এ বিষয়ে কিদওয়াই বলেন, ‘৬৫টি আসনে কংগ্রেস প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, অর্থাৎ তাদের ভোট খুবই কম ছিল। কিন্তু এই স্বল্পসংখ্যক ভোটও এএপির ক্ষতি করেছে। রাজনীতিতে ২ যোগ ২ সব সময় ৪ হয় না। কেজরিওয়ালের পরাজয়ের ব্যবধান ও সন্দীপ দীক্ষিত যে পরিমাণ ভোট পেয়েছেন, তা দেখলেই স্পষ্ট হয়।’
বিদ্যমান নাগরিক সমস্যা এএপির বিরুদ্ধে
২০২২ সালে দিল্লি পৌর নির্বাচনে এএপি জয় পাওয়ার পর নাগরিক জীবনের সমস্যাগুলো জনজীবনে ফিরে আসে। কিদওয়াই বলেন, ‘দিল্লির বেহাল রাস্তা, অপরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত পানি ও নিকাশি সমস্যার মতো নাগরিক পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ ছিল। যদিও এসব সমস্যা পৌর করপোরেশনের আওতাভুক্ত, কিন্তু সাধারণ মানুষ দিল্লি সরকারকেই দায়ী করেছে। ফলে কেজরিওয়াল সরকার সব দোষের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।’
দুর্নীতির অভিযোগ ও ‘শীশ মহল’ বিতর্ক
দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এএপির বিরুদ্ধে ছিল, কিন্তু ‘শীশ মহল’ বিতর্ক কেজরিওয়ালের ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হেনেছে। কিদওয়াই বলেন, ‘কেজরিওয়াল সব সময় নিজেকে সাধারণ মানুষের নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতেন। কিন্তু যখন শীশ মহল বিতর্ক সামনে এল, তখন তা তাঁর স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ক্ষতি করে। তিনি অন্যান্য অভিযোগের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন, কিন্তু শীশ মহল কাণ্ডে তিনি স্বচ্ছতা দেখাতে পারেননি। যদি এটি নির্দোষ কিছু হতো, তবে তিনি জনগণের জন্য তা খুলে দিতেন।
অনলাইন ডেস্ক/খবরওয়ালা/এফএস