খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর অপহরণের ঘটনায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি দুই পর্যটক ও এক রিসোর্ট মালিককে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, পাশাপাশি পর্যটন নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অপহৃতদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে বনদস্যু পরিচয়ে মুক্তিপণ দাবি করার তথ্যও নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাজধানী ঢাকার বাসিন্দা চারজন পর্যটক—নারী ও পুরুষ মিলিয়ে—সুন্দরবনে ভ্রমণে আসেন। তারা খুলনার দাকোপ উপজেলার ঢাংমারী এলাকায় অবস্থিত ‘গোল কানন’ নামের একটি ইকো রিসোর্টে বুকিং নিয়ে দুপুরে সেখানে ওঠেন। বিকেলে রিসোর্টের মালিক শ্রীপতি বাছাড়সহ চার পর্যটক নৌকাযোগে বনের একটি ছোট খালে ভ্রমণে বের হন। এ সময় রিসোর্ট সংলগ্ন খাল থেকে সশস্ত্র দস্যুরা নারীসহ পাঁচজনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
রাতের দিকে দস্যুরা দুই নারী পর্যটককে রিসোর্টে ফিরিয়ে দিলেও রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড় এবং দুই পুরুষ পর্যটক—মো. সোহেল ও জনিকে জিম্মি করে রাখে। পরবর্তীতে অপহৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বনদস্যু পরিচয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় রিসোর্ট মালিকের পরিবার দাকোপ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছে। দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অপহৃতদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন শুক্রবার থেকেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের স্টাফ অফিসার (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কমান্ডর আবরার বলেন, “অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী বিস্তারিত তথ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।” তবে রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ঢাংমারী নদী সুন্দরবন ও লোকালয়কে আলাদা করেছে। নদীর দক্ষিণ পাড়ে বিস্তৃত সুন্দরবন আর পূর্ব পাড়ে জনবসতি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে বেশ কয়েকটি ইকো রিসোর্ট গড়ে উঠেছে, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন বিকাশে ভূমিকা রাখছে। রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবনের (আরওএএস) এক নেতা জানান, গোল কানন রিসোর্টটি এনজিও অর্থায়নে কমিউনিটি ট্যুরিজম উন্নয়নের লক্ষ্যে স্থানীয়দের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও তাদের সংগঠনের সদস্য নয়। এ ঘটনায় রিসোর্টটির পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অপহরণের স্থান | ঢাংমারী এলাকা, দাকোপ, খুলনা |
| অপহৃতের সংখ্যা | ৩ জন |
| অপহৃতদের পরিচয় | রিসোর্ট মালিক ও দুই পুরুষ পর্যটক |
| উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি | ২ নারী পর্যটক |
| আইনগত ব্যবস্থা | অপহরণ মামলা দায়ের |
| উদ্ধার অভিযান | কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অভিযান অব্যাহত |
এই ঘটনার পর সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনে নিরাপত্তা জোরদার, নৌপথে টহল বৃদ্ধি এবং পর্যটক ও রিসোর্ট পরিচালকদের জন্য সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।