খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২১ জুলাই ২০২৫
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চলে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মোমেনা বেগম (৪৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচজন গুলিবিদ্ধসহ বহু মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ব্যাপক গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সোমবার (২১ জুলাই) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়েদাবাদ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে।
নিহত মোমেনা বেগম সায়েদাবাদ গ্রামের আকতার মিয়ার স্ত্রী। গুলিবিদ্ধ আহতরা হলেন—নাজিমুদ্দিন (৪৫), সিয়াম মিয়া (১৬), মো. রানা (২০), মো. মাহিন (২০) ও তাজুল ইসলাম (২০)। অন্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সায়েদাবাদ বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বালুরচর ও সায়েদাবাদ গ্রামের মধ্যে প্রায় তিন দশক ধরে বিরোধ চলে আসছে। হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে সায়েদাবাদ গ্রাম বাজারটি দখলে রাখলেও বালুরচরের এরশাদ মিয়ার অনুসারীরাও বাজারে প্রবেশ করতে চায়। এই নিয়ে প্রতিনিয়তই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সোমবার ভোরে এরশাদ মিয়ার নেতৃত্বে বালুরচরের শত শত লোক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্র নিয়ে সায়েদাবাদ বাজারে হামলা চালায়। এতে নারী-শিশুসহ বহু মানুষ আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোমেনা বেগমকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এরপর প্রতিশোধ নিতে হানিফ মিয়ার অনুসারীরাও বালুরচর গ্রামে পাল্টা হামলা চালায়। গ্রামবাসী বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেলে সেখানে ভাঙচুর, গুলিবর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত এখনও জানা যায়নি।
সংঘর্ষের প্রধান দুই পক্ষ হানিফ মিয়া ও এরশাদ মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ফরিদা গুলশানারা কবির জানান, ‘বুকে ও হাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মোমেনা বেগমকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে পাঁচজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।,
১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমান জানান, ‘গুলিবিদ্ধ দুজনকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।,
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, ‘বাজারের আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। একজন নারী নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।’
খবরওয়ালা/শরিফ