খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৭ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
খুলনায় একটি মেলাকে কেন্দ্র করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে জড়িত থাকার অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রবিবার (৬ জুলাই) রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ১ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি কল রেকর্ডিং, যেখানে মেলার আয়োজকের সঙ্গে টাকা চাওয়ার কথোপকথন স্পষ্টভাবে শোনা যায়।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান ডিসিপ্লিনের অনার্সের শিক্ষার্থী জহুরুল ইসলাম তানভীর এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাজ্জাদুল ইসলাম আজাদ। তাঁরা দু’জনই ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, খুলনা মহানগরী’র সদস্য সচিব ও মুখ্য সংগঠকের দায়িত্বে রয়েছেন।
ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যায়, সাজ্জাদুল ইসলাম আজাদ মেলার আয়োজক মন্টুর কাছে বলেন, “আমি পারব সবাইকে ঠাণ্ডা করতে এ টু জেড , কেউ ওইদিকে তাকাবে না—যদি ১০ টাকা (১০ লাখ টাকা) দেন। আর যদি না দেন, তাহলে আজ এ গ্রুপ যাবে, কাল অন্য গ্রুপ যাবে, আপনি কয়জনকে ঠাণ্ডা করবেন?”
“আমার দ্বারা তো সবাইকে ঠাণ্ডা করা সম্ভব না। আমার কাছে দুই টাকা রেডি আছে, বললে এখনই দিয়ে যাব।” এই কথার জবাবে আজাদ বলেন, “আপনার পুলিশ কমিশনারও ঠাণ্ডা করতে পারবে না, বলে দিয়েন তারে।”
মন্টুর বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু ‘ছোট ভাই’ এসে তানভীরের নাম বলে দাবি করছিল, তাদের কাছে টাকা দিতে। উত্তরে আজাদ বলেন, “মেলা ভাঙতে তো আমরা কাউকে পাঠাইনি, তাহলে ওদেরই দিয়ে দেন।”
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইশরিয়াক কবির বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়কে অরাজনৈতিক ঘোষণার পরও কিছু স্বঘোষিত সমন্বয়ক নিজেদের পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। ৫ আগস্টের পর দেখা যায়, তাঁদের জীবনযাত্রা হঠাৎ বদলে যায়, তাঁরা দামি বাইকে ঘুরে বেড়ান। আজাদ নিজেকে ‘জুলাই আন্দোলনের কান্ডারি’ বললেও শিক্ষার্থীদের মাঝে তাঁর ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। ভাইরাল হওয়া অডিওতে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। ‘জুলাই চেতনা’ বিক্রি করে এরা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের খুলনা মহানগরের আহ্বায়ক আল শাহরিয়ার বলেন, “ভিডিওটি আমি দেখেছি। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে।”
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনামুল হাসান জানান, “নবপর্যায়ের কমিটি একটি আর্থিক স্বচ্ছতা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে আছি। গণঅভ্যুত্থানের প্ল্যাটফর্মকে অপব্যবহার করে কেউ অপকর্ম করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনকেও আইনগত ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানাই।”
অডিও রেকর্ডে যাঁর সঙ্গে কথোপকথন হয়, সেই আয়োজক মন্টু বলেন, “ফাঁস হওয়া রেকর্ডিং আমার এবং সাজ্জাদের মধ্যকার কল রেকর্ডিং। যা শোনা গেছে, সব সত্যি।” তবে পরে ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. নাজমুস সাদাত বলেন, “আমি এখন ফরেস্টিতে আছি, সারাদিন নেটওয়ার্কের বাইরে ছিলাম। বিষয়টি এখনও দেখিনি। ৮ বা ৯ তারিখে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত বলতে পারব।”
অন্যদিকে, অভিযুক্ত তানভীর ও আজাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন রিসিভ করেননি।
খবরওয়ালা/এমএজেড